নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে? বিবাদীবাগের ঐতিহাসিক লালবাড়ি অর্থাৎ মহাকরণ (Writers’ Buildings) কি আবারও ফিরে পেতে চলেছে তার হারানো গৌরব? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদলের ইঙ্গিত মিলতেই এই জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রের খবর, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে নবান্ন নয়, বরং মহাকরণ থেকেই পরিচালিত হবে রাজ্য প্রশাসন।
কেন এই তৎপরতা? ২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক সচিবালয় মহাকরণ থেকে হাওড়ার নবান্নে স্থানান্তরিত করেন। সংস্কারের কাজের দোহাই দিয়ে এই বদল করা হলেও গত দেড় দশকে মহাকরণের কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে ধুলোর আস্তরণ আর ভাঙা আসবাবের স্তূপ জমেছে মুখ্যমন্ত্রীর এক সময়ের সেই ঐতিহ্যবাহী কক্ষে। তবে নির্বাচনী ফল বিজেপির পক্ষে আসায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
তৎপর পিডব্লিউডি (PWD): সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের (PWD) ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্তারা মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। পুরো ভবনটি এখনই ব্যবহারের যোগ্য না হলেও, অন্তত ২৮টি ঘর দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের বসার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে প্রধান ব্লকটি। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কী বলছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব? রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা রাইটার্স থেকেই সরকার পরিচালনা করব। ২০২৬-এ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণেই বসবেন।” কলকাতার যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র ডালহাউসিতে প্রশাসনিক সদর দফতর ফিরে আসায় খুশি সাধারণ মানুষও।
সংক্ষিপ্ত তথ্য (Quick Read)
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ১৭৭৬ সালে তৈরি এই ভবনটি পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সদর দফতর।
- বর্তমান অবস্থা: গত ১৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে মহাকরণ।
- বিজেপির প্রতিশ্রুতি: জয়ী হওয়ার পর মহাকরণ থেকেই সরকার চালানোর ঘোষণা গেরুয়া শিবিরের।
- পূর্ত দফতরের কাজ: প্রাথমিকভাবে ২৮টি ঘর তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে।






