ডিজিটাল ডেস্ক: ২০১১-র পরিবর্তনের কারিগর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পনেরো বছরের অপরাজিত দুর্গের পতন হলো ২০২৬-এ। সবুজ আবির সরিয়ে বঙ্গে এবার গেরুয়া বসন্ত। প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা আর একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বাংলার মসনদে প্রথমবার বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু কেন এই ভরাডুবি? রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে উঠে আসছে পাঁচটি প্রধান কারণ।
১. আর জি কর থেকে নিয়োগ দুর্নীতি: ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
শাসকদলের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতি। একদিকে শিক্ষক নিয়োগে ‘চাকরি চুরি’, অন্যদিকে সাম্প্রতিক আর জি কর কাণ্ড— সাধারণ মানুষের মনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। বিশেষ করে ‘অভয়ার মা’-র বিজেপি শিবিরে যোগদান মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ও নিচুতলার ‘দাদাগিরি’
১৫ বছরের টানা শাসনে তৈরি হওয়া ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ ফ্যাক্টর কাজ করেছে প্রবলভাবে। নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ জনমানসে তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
৩. হিন্দুত্বের মেরুকরণ ও মুসলিম ভোট বিভাজন
বেলডাঙা-রেজিনগরের অশান্তি এবং সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে মেরুকরণ শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের একচেটিয়া সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসিয়েছে বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলি। ফলে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাতেও লাভবান হয়েছে বিজেপি।
৪. বাঙালি অস্মিতা বনাম ‘ডবল ইঞ্জিন’
তৃণমূলের পুরনো ‘বহিরাগত’ তকমা এবার আর কাজ করেনি। মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা বাঙালি প্রার্থীদের প্রাধান্য দিয়ে বিজেপি নিজেদের বাঙালি-বিরোধী ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে, কেন্দ্রের বঞ্চনা সইতে না পেরে রাজ্যের মানুষ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আশাতেই ভোট দিয়েছেন।
৫. কর্মসংস্থানহীনতা ও ভাতার রাজনীতি
স্থায়ী চাকরির বদলে ‘ভাতার রাজনীতি’ এবার ব্যুমেরাং হয়েছে তৃণমূলের জন্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে বিজেপির ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মহিলাদের একাংশকে টেনে নিয়েছে। অন্যদিকে, বড় শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানহীনতায় তিতিবিরক্ত তরুণ প্রজন্ম দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছে পদ্ম শিবিরে।






