বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পরই ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে সোচ্চার সৌরভ দাস, চাইলেন সিনেমা মুক্তির অনুমতি

বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পরই ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে সোচ্চার সৌরভ দাস, চাইলেন সিনেমা মুক্তির অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসতেই টলিউডেও শুরু হয়েছে পটপরিবর্তনের হাওয়া। আর এই আবহে নিজের দীর্ঘদিনের ‘ক্ষোভ’ উগরে দিলেন অভিনেতা সৌরভ দাস। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (The Bengal Files) বাংলায় মুক্তির জন্য ফের আবেদন জানালেন অভিনেতা। ৫ মে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানান, যে রাজনৈতিক চাপের মুখে এতদিন ছবিটি বাংলায় মুক্তি পায়নি, এখন সময় এসেছে সেই বাধা কাটানোর।

বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পরই ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে সোচ্চার সৌরভ দাস, চাইলেন সিনেমা মুক্তির অনুমতি
অভিনেতা সৌরভ দাস

উল্লেখ্য, এই ছবিতে ‘গোপাল পাঠা’ ওরফে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌরভ। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই অভিনেতা ও এই ছবিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আইনি জটিলতা এবং চাপের মুখে বাংলায় ছবিটির প্রদর্শনী কার্যত থমকে গিয়েছিল। সৌরভের দাবি, এই ছবি করতে গিয়ে তাঁকে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে এবং কেরিয়ার নিয়েও আশঙ্কায় ছিলেন তিনি।

বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পরই ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে সোচ্চার সৌরভ দাস, চাইলেন সিনেমা মুক্তির অনুমতি
‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবিতে ‘গোপাল পাঠা’ ওরফে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকায় সৌরভ দাস। ছবি- সংগৃহীত

ফেসবুক পোস্টে অভিনেতা লেখেন,

“বিশ্বাস করুন, ‘কর্মফল’ বলে সত্যিই কিছু একটা আছে। আর তা যখন আঘাত হানে, তখন সেই আঘাতের তীব্রতা হয় হাড়হিম করা! আমি চাই, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমাটি যেন আবারও আমাদের এই বাংলায় মুক্তি পায়।”

“আমার দীর্ঘ লড়াইয়ের নেপথ্যে যে মানসিক দহন ছিল, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। বারবার নিষিদ্ধ হওয়ার হুমকি আর প্রিয় কাজটা হারিয়ে ফেলার ভয় আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরেছিল। মাঝেমধ্যে ভাবতাম, এই বয়সে এসে কি তবে সব শূন্য থেকে শুরু করতে হবে? আমার পরিবারের কী হবে, যারা আমার স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকে?

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিনেও আমি একা ছিলাম। বন্ধুকে সাথে নিয়ে মুম্বই পাড়ি দিতে হয়েছিল শুধু নিজের সিনেমাটা বড় পর্দায় দেখার জন্য। হলের অন্ধকারে বসে সেদিন অঝোরে কেঁদেছিলাম; এই ভেবে নয় যে আমি সফল, বরং এই দুঃখে যে—আমার প্রিয়জনরা পাশে নেই। আমার পরিবারকে টাটানগরে যেতে হয়েছিল তাদের ছেলের বলিউড ডেবিউ দেখার জন্য। তারা গর্বিত ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের সাথে সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে না পারার ক্ষতটা আজও টাটকা। সাধারণ ঘর থেকে এসে জাতীয় স্তরের পোস্টারে নিজের মুখ দেখাটা আমার কাছে শুধু সাফল্য নয়, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জয়।”

লড়াইয়ের শেষটা ছিল এক চূড়ান্ত মুক্তির চিৎকারে। সৌরভের কথায়, ‘সিনেমা শেষ করে হল থেকে বেরিয়ে আমি গলার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করেছিলাম। সেই চিৎকারে মিশে ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা সব গ্লানি আর হতাশা। তারপর নিজের সেই বিশাল হোর্ডিং-এর নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম, যেখানে জ্বলজ্বল করছিল আমার মুখ। আজ ভাবলে গর্ব হয়, এমন এক মহৎ চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি।’

একরাশ স্বস্তি নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘কর্মফল বলে সত্যিই কিছু আছে। আর তার বিচার যখন শুরু হয়, তখন সেই আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা কারও থাকে না। আমি চাই, শিল্পের জয় হোক— ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ যেন আবারও বাংলায় মুক্তি পায়। কারণ শিল্পের সাথে আপস চলে না।’ তবে আক্ষেপের সুরও শোনা গেল শেষে। স্ক্রিপ্ট গোপন করার প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘আমাকে পুরো চিত্রনাট্য দেওয়াই হয়নি। ৯০ দিনের শুটে মাত্র ৩ দিনের স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়েছিল। কেনই বা দেবে? পুরোটা জানলে তো আজ সত্যিটা ফাঁস করে দিতাম!’”

রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সৌরভের এই মন্তব্য টলিউডের অন্দরে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সিনেমাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!