একুশে পা ডিজিটাল ডেস্ক:
হিন্দু ধর্মে বছরে মোট ২৪টি একাদশী পালিত হয়। তবে তার মধ্যে নির্জলা একাদশীকে সবচেয়ে মহাপুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই একাদশীর ব্রত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে বছরের সব একাদশী পালনের সমান পুণ্য লাভ হয়।
নির্জলা একাদশীকে ভীমসেনী একাদশী নামেও ডাকা হয়। মহাভারতের ভীমসেন মহর্ষি বেদব্যাসের পরামর্শে এই ব্রত পালন করেছিলেন বলেই এই নামের প্রচলন হয়েছে।
কেন বলা হয় নির্জলা একাদশী?
‘নির্জলা’ শব্দের অর্থ জলবিহীন। এই ব্রতে একাদশীর সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশীর সূর্যোদয় পর্যন্ত জল ও অন্ন গ্রহণ না করার নিয়ম রয়েছে। ভক্তরা এদিন ভগবান বিষ্ণুর পূজা করেন এবং তাঁর নাম জপ করেন।
নির্জলা একাদশী ব্রতের নিয়ম
- ভোরে স্নান করে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করুন।
- ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করুন।
- একাদশীর সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশীর সূর্যোদয় পর্যন্ত অন্ন ও জল ত্যাগ করে উপবাস পালন করা হয়।
- সারাদিন ভগবানের কীর্তন, ভজন ও ব্রতকথা শ্রবণ করা শুভ বলে মনে করা হয়।
- জলভরা কলস, সাদা কাপড়, চিনি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দক্ষিণা ব্রাহ্মণকে দান করার রীতি রয়েছে।
নির্জলা একাদশীতে দানের গুরুত্ব
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে জলভরা কলস, অন্ন, বস্ত্র, ছাতা, জুতো, ফল, আসন ও কম্বল দান অত্যন্ত শুভ। বিশেষ করে জলভরা কলস দান করলে বছরের সব একাদশীর পুণ্য লাভ হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
নির্জলা একাদশীর ব্রতকথা
মহাভারতের সময় ভীমসেন মহর্ষি বেদব্যাসকে জানান, তিনি ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না, তাই প্রতি একাদশীতে উপবাস রাখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তখন বেদব্যাস তাঁকে নির্জলা একাদশীর ব্রত পালনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এই একদিন সম্পূর্ণ নির্জলা উপবাস পালন করলে বছরের সব একাদশী পালনের সমান ফল পাওয়া যায়। এরপর ভীমসেন এই ব্রত পালন করে পুণ্যলাভ করেন এবং পাপমুক্ত হন।
ধর্মীয় বিশ্বাস
ধর্মীয় মতে, নির্জলা একাদশীর ব্রত পালন করলে দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, পাপক্ষয় এবং মোক্ষ লাভের আশীর্বাদ মেলে। তবে বয়স্ক, অসুস্থ, গর্ভবতী বা বিশেষ শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্জলা উপবাস না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।






