বিজেপি আসায় যদি ‘খবরদারি’ বন্ধ হয়, তবে তা সিনেমার পক্ষেই স্বস্তির: পরমব্রত

বিজেপি আসায় যদি ‘খবরদারি’ বন্ধ হয়, তবে তা সিনেমার পক্ষেই স্বস্তির: পরমব্রত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে টলিপাড়ার সমীকরণও কি বদলে যাচ্ছে? বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর এবার মুখ খুললেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানালেন, মতাদর্শগতভাবে তিনি বিজেপির বিরোধী হলেও, যদি নতুন সরকারের হাত ধরে স্টুডিওপাড়ায় ফেডারেশনের ‘খবরদারি’ এবং ‘থ্রেট কালচার’ বন্ধ হয়, তবে তাকে স্বাগত জানাবেন তিনি।

টলিপাড়ার ‘মাফিয়ারাজ’ নিয়ে বিস্ফোরক পরম

তৃণমূল জমানার শেষ কয়েক বছরে টলিউড ফিল্ম ফেডারেশনের কাজকর্ম নিয়ে বারংবার বিতর্ক হয়েছে। পরমব্রতর অভিযোগ, গত বছর টলিপাড়ার একাধিপত্যের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াই শুরু করেছিলেন, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার চাপে তাঁকে কার্যত ‘নিষিদ্ধ’ করে দেওয়া হয়। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল তাঁকে। অভিনেতার কথায়, “ফেডারেশনের কাজকর্মে যে অনিয়ম হয়েছে, তা তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝতে অনেক দেরি করে ফেলেছিল।”

কেন তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছিলেন?

অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, শাসকদলের ওপর ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোটপ্রচারে নেমেছিলেন তিনি? পরমব্রত জানান, তিনি আগাগোড়াই বিজেপির ভাবধারার বিরোধী। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়ার (SIR প্রক্রিয়া) বিরোধিতা করতেই তিনি তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অটুট থাকলেও, বাম-কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় তিনি তৃণমূলের মঞ্চ বেছে নিয়েছিলেন।

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা

বিজেপি সরকার আসায় সিনেমার উন্নতির বিষয়ে আশাবাদী পরম। তাঁর মতে:

  • বিজেপির মজ্জায় ব্যবসা এবং শিল্প রয়েছে, যা বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো হতে পারে।
  • ইন্ডাস্ট্রি থেকে ‘ব্যান কালচার’ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া জরুরি।
  • সিনেমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় এমন মানুষদের আসা উচিত যারা হাতে-কলমে সিনেমা বোঝেন।

পরমব্রতর এই মন্তব্য কি টলিপাড়ার আগামীর নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত? সেদিকেই তাকিয়ে এখন স্টুডিওপাড়া।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!