পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

জন্মাষ্টমী ২০২৫: ঘরে ঘরে শ্রীকৃষ্ণের আগমনী উৎসব, জানুন পুজোর উপকরণ, মাহাত্ম্য ও পদ্ধতি

জন্মাষ্টমী ২০২৫: ঘরে ঘরে শ্রীকৃষ্ণের আগমনী উৎসব, জানুন পুজোর উপকরণ, মাহাত্ম্য ও পদ্ধতি

কলকাতা: আজ ঘরে ঘরে চলছে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর মহোৎসবের আয়োজন। দৃক সিদ্ধান্ত ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট রাত ১১টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে শনিবার, ১৬ অগাস্ট রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। অন্যদিকে গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকানুসারে তিথি শুরু হবে শুক্রবার গভীর রাত ১টা ১৬ মিনিটে এবং শেষ হবে শনিবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে। ফলে উদয়তিথি হিসেবে শনিবারই মূল জন্মাষ্টমী পালন হলেও, অনেকেই আজ শুক্রবার রাতেই মধ্যরাতে পুজো করছেন।


🪔 জন্মাষ্টমী পুজোর প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ধূপকাঠি, কর্পূর, চন্দন, জাফরান, সিঁদুর, সুপারি, পান, পদ্ম, তুলসীর মালা, কুমকুম, ধান, আবির, কাঁচা হলুদ, গোপালের গয়না, সপ্তমৃত্তিকা, সপ্তধন, কুশ, দূর্বা, শুকনো ফল, গঙ্গাজল, মধু, চিনি, মিছরি, তুলসী ডাল, খাঁটি ঘি, দই, দুধ, মৌসুমি ফল, নৈবেদ্য বা মিষ্টান্ন, এলাচ, লবঙ্গ, সুগন্ধি, সিংহাসন, ঝুলা।
  • বিশেষ উপকরণ: আমপল্লব, পঞ্চামৃত, কলাপাতা, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি, গণেশ ও অম্বিকার ছবি, ভগবানের পোশাক, সাদা ও লাল কাপড়, পঞ্চরত্ন, প্রদীপ, নারকেল, চাল, গম, গোলাপ ও পদ্মফুল, অর্ঘ্য পাত্র, পঞ্চগব্য, মধুপর্কের বাটি।

ময়ূরের পালক ও বাঁশির মাহাত্ম্য

  • ময়ূরের পালক: শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় অলঙ্কার হিসেবে মুকুটে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বাস করা হয়, ঘরে রাখলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় ও সমৃদ্ধি আসে। জন্মাষ্টমী পুজোয় গোপালকে ময়ূরের পালক অর্পণ করলে পূজা পূর্ণতা পায়।
  • বাঁশি: কৃষ্ণের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র। জন্মাষ্টমীতে গোপালের বাঁশি নিবেদন করলে ধন-সম্পদ ও সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।

শঙ্খ ও তুলসীর তাৎপর্য

  • শঙ্খ: শুভতার প্রতীক, জন্মাষ্টমীতে শঙ্খ দিয়ে গোপালকে স্নান করানো শুভ বলে ধরা হয়।
  • তুলসী: কৃষ্ণের প্রিয় পাতা, যা অর্পণ করলে ভক্তের ইচ্ছা পূর্ণ হয়।

জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগ

  • ৫৬ ভোগ: ১৬ রকম জলখাবার, ২০টি মিষ্টি ও ২০ প্রকার শুকনো ফল। দুধজাত খাবার সবার আগে নিবেদন করতে হয়।
  • ঘরোয়া প্রস্তুতিতে থাকতে পারে— লুচি, ছোলার ডাল, সুজি, তালের বড়া, তালের ক্ষীর, মালপোয়া, মোহনভোগ, নারকেল নাড়ু, মাখন, ক্ষীর, পায়েস, বাসন্তী পোলাও, দুধ, দই, কাঁচা মাখন।
  • পঞ্চামৃত ও মৌসুমি ফল নিবেদন অপরিহার্য।

জন্মাষ্টমী পুজোর পদ্ধতি

  1. পূর্বদিন: নিরামিষ ভোজন ও সংযম পালন, রাত ১২টার আগে আহার শেষ।
  2. পুজোর দিন ভোরে: স্নান, ঘর পরিষ্কার, প্রদীপ জ্বালানো, দেবতার জলাভিষেক।
  3. শিশুরূপ কৃষ্ণপুজো: নন্দগোপালকে স্নান করিয়ে দোলনায় বসিয়ে ভোগ নিবেদন।
  4. মধ্যরাতের পুজো: চিনি, মিছরি, শুকনো ফল ও বিশেষ ভোগ অর্পণ, আরতি।

জন্মাষ্টমী শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি, আনন্দ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ পেতে আজকের দিনে আন্তরিক ভক্তিভাবে পুজো করুন এবং ঘরে তুলসী, ময়ূরের পালক ও বাঁশি রাখার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি আহ্বান করুন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!