শারদোৎসব মানেই কলকাতার রাস্তায় উৎসবের ঢেউ। বনেদি বাড়ির সাবেকি পুজো থেকে নজরকাড়া থিমের বারোয়ারি মণ্ডপ—প্রতি বছরই নতুন রূপে সেজে ওঠে শহর। আর পুজোর এই বৈচিত্র্য উপভোগ করতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ বেছে নিলে পরিক্রমা হতে পারে আরও সহজ ও স্বচ্ছন্দ।
সরকারি বাস, ট্রাম, মেট্রো কিংবা জলপথের লঞ্চ—পুজোর দিনগুলিতে শহর ঘোরার জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। বিশেষ করে যানজট ও পার্কিংয়ের ঝক্কি এড়িয়ে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে পৌঁছতে গণপরিবহণ বেশ কার্যকর।
পুজো পরিক্রমার পরিকল্পনায় তাই শুধু কোন মণ্ডপ দেখবেন, তা নয়; কোন রুটে যাবেন, কোথায় নামবেন এবং কোন সময় ভিড় তুলনামূলক কম থাকতে পারে—এসবও মাথায় রাখা জরুরি। একটু পরিকল্পনা করলেই একদিনে দেখা সম্ভব পুজোর একাধিক রূপ।
এবারের দুর্গাপুজোয় তাই শহরটাকে নতুন চোখে দেখুন। বাসে-ট্রামে শহরের অলিগলি পেরিয়ে, প্রয়োজনে লঞ্চে গঙ্গাবক্ষে ভেসে, দেখে নিতে পারেন কলকাতার বনেদি ও বারোয়ারি পুজোর অনন্য মেলবন্ধন।
সরকারি বাস-ট্রামে শুরু হোক পুজো পরিক্রমা

পুজোর সময়ে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছনোর জন্য সরকারি বাস অন্যতম পরিচিত মাধ্যম। কাছাকাছি এলাকার পুজোগুলিকে একটি রুটে সাজিয়ে নিলে একই দিনে একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখা সম্ভব।
ঐতিহ্যবাহী ট্রামও পুজো পরিক্রমায় যোগ করতে পারে আলাদা মাত্রা। শহরের পুরনো রাস্তা, উৎসবের আলো এবং ব্যস্ত পুজোর আবহ—সব মিলিয়ে যাত্রাটাই হয়ে উঠতে পারে অভিজ্ঞতার অংশ।
তবে পুজোর সময়ে পরিষেবা ও রুটে পরিবর্তন হতে পারে। তাই বেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট পরিবহণ পরিষেবার সময়সূচি ও রুট সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং হাতে কিছু অতিরিক্ত সময় রাখা ভালো।
বনেদি বাড়ির সাবেকিয়ানা থেকে বারোয়ারি থিম

কলকাতার পুজোর অন্যতম আকর্ষণ তার বৈচিত্র্য। বনেদি বাড়ির পুজোয় পাওয়া যায় প্রাচীন রীতি, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সাবেকি প্রতিমার আবহ। অন্যদিকে বারোয়ারি পুজোয় থাকে নতুন ভাবনা, শিল্পনির্ভর মণ্ডপসজ্জা এবং নানা সামাজিক বার্তা।
সকালে বা দুপুরে বনেদি বাড়ির পুজো দিয়ে পরিক্রমা শুরু করলে ভিড় তুলনামূলকভাবে সামলে নেওয়া সহজ হতে পারে। সন্ধ্যার দিকে থিম পুজোর মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। এতে একই দিনে পুজোর দুই ভিন্ন রূপ দেখার সুযোগ তৈরি হয়।
পুজো রুট তৈরির সময় কাছাকাছি এলাকার মণ্ডপগুলিকে একসঙ্গে রাখাই সুবিধাজনক। এতে অযথা দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে বেশি সময় পুজোর পরিবেশ উপভোগ করা যায়।
লঞ্চে গঙ্গাবক্ষে পুজো, অন্যরকম উৎসবের স্বাদ
সড়কপথের পাশাপাশি জলপথেও পুজোর আবহ উপভোগ করা যায়। গঙ্গার বুক দিয়ে লঞ্চে যাত্রা করতে করতে শহরের ঘাট, নদীতীর এবং আলোকসজ্জা দেখার অভিজ্ঞতা পুজো পরিক্রমাকে করে তুলতে পারে আরও আকর্ষণীয়।
তবে জলপথের যাত্রার ক্ষেত্রেও সময়সূচি, পরিষেবা এবং ঘাটের তথ্য আগে থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের সঙ্গে বেরোলে শিশু ও বয়স্কদের কথা মাথায় রেখে যাত্রাপথ বেছে নেওয়াও জরুরি।
পুজো মানেই শুধু মণ্ডপ দর্শন নয়, শহরকে নতুন করে আবিষ্কার করা। সরকারি বাস-ট্রাম থেকে লঞ্চ—গণপরিবহণের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিত পুজো পরিক্রমা করলে সময় ও যাত্রার ঝক্কি দুটোই সামলানো সম্ভব।
তাই এবার পুজোয় একটি রুট ঠিক করে বেরিয়ে পড়ুন। বনেদি বাড়ির ঐতিহ্য, বারোয়ারি পুজোর সৃজনশীলতা আর গঙ্গাবক্ষের সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে আপনার পুজো পরিক্রমাই হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয় উৎসবের গল্প।







