নিজস্ব প্রতিবেদন, একুশে পা: আজ মাসিক শিবরাত্রি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মাসিক শিবরাত্রি। প্রতি মাসে এই ব্রত পালিত হলেও বছরে একবার পালিত মহাশিবরাত্রির গুরুত্ব আলাদা।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মাসিক শিবরাত্রির ব্রত ভক্তদের আত্মসংযম, মনঃসংযোগ এবং আধ্যাত্মিক চর্চায় সাহায্য করে। অবিবাহিত মহিলারা মনোবাসনা অনুযায়ী জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় এই ব্রত পালন করেন বলেও প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
মাসিক শিবরাত্রির ধর্মীয় গুরুত্ব কী?
শিবের আরাধনার জন্য মাসিক শিবরাত্রিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই দিনে ভক্তরা উপবাস করেন, শিবমন্দিরে গিয়ে পুজো দেন এবং ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নিয়ম মেনে শিবের আরাধনা করলে মানসিক শান্তি, আত্মসংযম এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ সহজ হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশ।
কীভাবে করবেন মাসিক শিবরাত্রির পুজো?
শিবরাত্রির দিনে ভক্তরা সাধারণত সকালে স্নান করে পুজোর প্রস্তুতি নেন। অনেকেই স্নানের জলে তিল ব্যবহার করেন। এরপর শিবমন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে জল ও বিভিন্ন পুজোর সামগ্রী নিবেদন করা হয়।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শিবলিঙ্গে দুধ, দই, মধু, চন্দন, ফুল, জল এবং বেলপাতা নিবেদন করা হয়। ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে শিবের আরাধনা করা হয়।
বেলপাতা শিবপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি ফল ও অন্যান্য নৈবেদ্যও নিবেদন করেন ভক্তরা।
মাসিক শিবরাত্রিতে কী মন্ত্র জপ করবেন?
এই দিনে সবচেয়ে প্রচলিত শিবমন্ত্র হল—
‘ওম নমঃ শিবায়’
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবরাত্রির দিন এই মন্ত্র জপ করলে মন শান্ত হয় এবং ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি পায়।
কীভাবে পালন করা হয় উপবাস?
মাসিক শিবরাত্রিতে অনেক ভক্ত নির্জলা বা ফলাহার করে উপবাস পালন করেন। তবে উপবাসের নিয়ম ব্যক্তি ও পারিবারিক রীতি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
যাঁদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কঠোর উপবাস করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ধর্মীয় আচার পালন করতে গিয়ে শরীরের ক্ষতি করা উচিত নয়।
মাসিক শিবরাত্রি ও মহাশিবরাত্রির পার্থক্য
মাসিক শিবরাত্রি প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে আসে। অন্যদিকে, মহাশিবরাত্রি বছরে একবার পালিত হয় এবং শিবভক্তদের কাছে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিবরাত্রি হিসেবে পরিচিত।
পুরাণ ও লোকাচারভিত্তিক বিভিন্ন বিশ্বাসে মহাশিবরাত্রির সঙ্গে শিব-পার্বতীর বিবাহ, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং শিবের মহিমার নানা কাহিনি যুক্ত রয়েছে।
শিবরাত্রির মূল বার্তা
শিবরাত্রির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সংযম, ভক্তি ও আত্মচর্চার ধারণা। উপবাস, মন্ত্রজপ, পুজো এবং রাত জাগার মাধ্যমে ভক্তরা শিবের আরাধনা করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সাধনা মানুষের মনকে স্থির করতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
তবে পুজোর তিথি, উপবাস ভাঙার সময় এবং স্থানীয় আচার পঞ্জিকা ও অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় জানার ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা অনুসরণ করাই শ্রেয়।







