কলকাতা: সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে আরও কড়া হল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোনও চিকিৎসকের অধীনে রোগী ভর্তি হলে, সেই রোগীকে ভর্তি করার দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। অর্থাৎ, রোগী ভর্তির দিন-সহ কার্যত ৭২ ঘণ্টা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা যাবে না।
সোমবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রোগী ভর্তির পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের আরও নিবিড়ভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা প্রয়োজন। সেই কারণেই এই বিধিনিষেধ।
কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?
সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপকদের সপ্তাহে অন্তত এক দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ থাকে। ওই দিনে তাঁদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও চিকিৎসকের ‘অ্যাডমিশন ডে’-তে রোগী ভর্তি হলে ওই দিন এবং তার পরের ৪৮ ঘণ্টা তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। স্বাস্থ্য দফতরের যুক্তি, এই সময়ের মধ্যে ভর্তি হওয়া রোগীর চিকিৎসা এবং শারীরিক অবস্থার উপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগী ভর্তির পর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী যাতে পর্যাপ্ত নজরদারি ও চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে সরকারি হাসপাতালের ডিউটি চলাকালীন চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস না করার বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
চিকিৎসকমহলে প্রশ্নও উঠছে
নতুন নির্দেশিকা ঘিরে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোনও চিকিৎসকের সপ্তাহে দু’দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ থাকলে, তাঁর ক্ষেত্রে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ কতটা থাকবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ ছাড়াও রেডিয়োলজি, ডার্মাটোলজি বা অ্যানেস্থেশিয়ার মতো বিভাগের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ‘অ্যাডমিশন ডে’ না থাকলে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও চিকিৎসকমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। নন-ক্লিনিক্যাল বিভাগের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কী হবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত
স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নির্দেশিকায় ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি আরও সীমিত করা বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট শর্তে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি রয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব ও রোগী পরিষেবায় যাতে কোনওরকম ঘাটতি না থাকে, সেই বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য স্বাস্থ্য প্রশাসন বারবার কড়া বার্তা দিয়েছে।
ফলে নতুন নির্দেশিকার পর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর হল বলেই মনে করা হচ্ছে।







