পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

২৮ অগস্ট রাখিবন্ধন রাজ্যজুড়ে সরকারি ভাবে, থাকছে তেরঙা রাখি ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

২৮ অগস্ট রাখিবন্ধন রাজ্যজুড়ে সরকারি ভাবে, থাকছে তেরঙা রাখি ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কলকাতা: রাখিবন্ধন উৎসবকে ঘিরে এ বার রাজ্যজুড়ে বিশেষ সরকারি কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২৮ অগস্ট ২০২৬, শুক্রবার রাখিবন্ধন উপলক্ষে সরকারি ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকাতেও ২৮ অগস্টকে ‘রাখি বন্ধন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি কর্মসূচির মূল ভাবনা শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এই লক্ষ্যেই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তর যৌথ ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

এ বারের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তেরঙা রাখিকে। অর্থাৎ জাতীয় পতাকার তিন রঙের ভাবনাকে সামনে রেখে তৈরি রাখি বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরকে জেলাগুলিতে এই তেরঙা রাখি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু রাখি পরানোর অনুষ্ঠান নয়, দিনটিকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্রনৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীদের মাধ্যমে বাউল ও লোকসঙ্গীত পরিবেশনের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও লোকশিল্পীদেরও সরকারি অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এই কর্মসূচিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুব সংগঠন, মহিলা সমিতি এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজ্যের গ্রামীণ এবং শহর—দুই এলাকাতেই হবে এই আয়োজন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক, মহকুমা এবং জেলা সদর স্তরে রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে। শহরাঞ্চলে কলকাতা পুরসভা-সহ অন্যান্য পুরসভাতেও নির্বাচিত ওয়ার্ডে অনুষ্ঠান হবে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় প্রতিটি পুরসভায় অন্তত ৪-৫টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে কর্মসূচি করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অনুমোদন আগেই দেওয়া হয়েছে বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। জেলা স্তরে প্রয়োজনীয় অর্থ যুব কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে পাঠানোর কথা। তবে বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকছে। আয়োজিত অনুষ্ঠানের ছবি-সহ Action Taken Report রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোথায় কী কর্মসূচি হল, কী ভাবে তা বাস্তবায়িত হল এবং তার প্রমাণ হিসেবে ছবি—সবই পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী ২৮ অগস্ট শুক্রবার রাখিবন্ধন উপলক্ষে ছুটি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশাপাশি রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ছুটির তালিকাতেও একই তারিখে রাখি বন্ধনের উল্লেখ রয়েছে।

ফলে এ বার রাখিবন্ধন শুধু পারিবারিক উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সরকারি উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে তা সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি বৃহত্তর কর্মসূচির রূপ পেতে চলেছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!