কলকাতা: গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের জঙ্গি সংগঠনের দিকে টানার চেষ্টা করা হচ্ছিল? দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। তাঁদের সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৮ আগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজার ও নোদাখালি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের STF এবং তেলেঙ্গানা পুলিশের যৌথ অভিযানে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ এবং মহম্মদ সফিক শেখ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে সম্ভাব্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হত। গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের পর WhatsApp, Telegram এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাবার্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হত বলে অভিযোগ।
এর আগে মার্চ মাসেও দেশের একাধিক রাজ্যে AQIS ও ISIS-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই তদন্তে পুলিশ জানিয়েছিল, অভিযুক্তদের কয়েকজন বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রপন্থী প্রচার চালানোর অভিযোগ সামনে আসে।
সেই তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার মির আসিফ আলির নামও উঠে এসেছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যের সন্দেহভাজনদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাম্প্রতিক ঘটনায়ও একই ধরনের কোনও নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্ভাব্য সদস্যদের প্রভাবিত করার জন্য উগ্রপন্থী প্রচারমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন ধরনের বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল।
জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় সঙ্গীতকে অবমাননা করে তৈরি কনটেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের বক্তব্য বা ভিডিও দেখিয়ে তরুণদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায় এই নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া এবং বীরভূমের দিকেও তদন্তকারীদের নজর রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ। মার্চের মামলায় আল-হাকিম শুকুর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই সূত্রের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটনায় ধৃতদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্ত এখনও চলছে। ফলে ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমনটা এখনই বলা যায় না। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস, অনলাইন যোগাযোগ এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা পুরো নেটওয়ার্কের ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ STF ও তেলেঙ্গানা পুলিশের যৌথ ভূমিকা ছিল।
- AQIS-এর সঙ্গে তাঁদের কথিত যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরির অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।
- পরে WhatsApp, Telegram ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের সন্ধান চলছে।
- বিদেশি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায়।
- অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।







