একুশে পা | ২৫ আগস্ট ২০২৬
হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র তিথি হিসেবে বিবেচিত প্রদোষ ব্রত। প্রতি চন্দ্রমাসে শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। মঙ্গলবার ত্রয়োদশী পড়ায় আজ, ২৫ আগস্ট ২০২৬, পালিত হচ্ছে ভৌম প্রদোষ ব্রত। ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আরাধনার জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
কী এই প্রদোষ ব্রত?
সূর্যাস্তের পর ত্রয়োদশী তিথির যে সময়কে প্রদোষকাল বলা হয়, সেই সময়েই মূলত শিবপুজো করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়ে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে ভগবান শিবের আরাধনা করলে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। মানসিক শান্তি, ভয় থেকে মুক্তি, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য বহু ভক্ত প্রদোষ ব্রত পালন করেন।
মঙ্গলবার প্রদোষ তিথি পড়লে তাকে বলা হয় ভৌম প্রদোষ। সোমবার হলে সোম প্রদোষ এবং শনিবার হলে শনি প্রদোষ নামে পরিচিত।
আজ কখন প্রদোষ ব্রত?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার শ্রাবণ শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ভৌম প্রদোষ পালিত হচ্ছে। ত্রয়োদশী তিথি ২৫ আগস্ট সকালে শুরু হয়ে ২৬ আগস্ট সকাল পর্যন্ত থাকবে। প্রদোষ পুজোর মূল সময় সূর্যাস্তের পর। স্থানভেদে প্রদোষকালের সময় পরিবর্তিত হয়।
কীভাবে করবেন শিবপুজো?
প্রদোষ ব্রতে ভক্তরা উপবাস বা সংযম পালন করে সন্ধ্যায় শিবের আরাধনা করেন। প্রচলিত পুজোর নিয়মের মধ্যে রয়েছে—
- ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ
- শিবলিঙ্গে জল, দুধ ও মধু দিয়ে অভিষেক
- বেলপাতা, ফুল ও ফল নিবেদন
- শিবের সঙ্গে পার্বতী, গণেশ, নন্দী ও কার্তিকের পুজো
- প্রদীপ জ্বালানো
- ধূপ ও নৈবেদ্য নিবেদন
- শিবের নামস্মরণ ও প্রদোষ ব্রতকথা পাঠ
অনেক ভক্ত এই দিনে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রও জপ করেন।
প্রদোষ ব্রতের মাহাত্ম্য কী?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রদোষ তিথিতে ভগবান শিবের আরাধনা করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং মানসিক শান্তি লাভ করা যায়। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলে শিবের কৃপায় সুখ, সমৃদ্ধি ও মনের ইচ্ছা পূরণের পথ প্রশস্ত হয়। তবে এগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত আচার—এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দাবি করা হচ্ছে না।
২০২৬ সালের প্রদোষ ব্রতের তালিকা
২০২৬ সালে বিভিন্ন পক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে একাধিক প্রদোষ ব্রত রয়েছে। বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি ও ১৬ জানুয়ারি প্রদোষ পালিত হয়েছে। ১০ আগস্ট ছিল সোম প্রদোষ। আজ ২৫ আগস্ট ভৌম প্রদোষের পর ৮ সেপ্টেম্বর ফের ভৌম প্রদোষ এবং ২৪ সেপ্টেম্বর গুরু প্রদোষ পালিত হবে। স্থানভেদে পঞ্জিকার সময়ের কিছু পার্থক্য হতে পারে।
ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্জিকা ও পুরোহিতের পরামর্শ অনুযায়ী তিথি ও পুজোর সময় মেনে চলাই শ্রেয়।







