ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু ধর্মীয় বর্ষপঞ্জিতে আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথির তাৎপর্য অপরিসীম। বঙ্গীয় সনাতন সংস্কৃতিতে এই দিনটি ‘দেবশয়নী একাদশী’ (Devshayani Ekadashi) এবং মহারাষ্ট্রসহ ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ প্রান্তে ‘আষাঢ়ী একাদশী’ (Ashadhi Ekadashi) নামে সুপরিচিত।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, আজকের পবিত্র তিথিতেই মহাবিশ্বের পালকদেবতা ভগবান শ্রীবিষ্ণু আগামী চার মাসের জন্য ক্ষীরসাগরে অনন্ত নাগশয্যায় যোগনিদ্রায় গমন করেন। এই চার মাসের বিশেষ সময়কালকেই শাস্ত্রে বলা হয় ‘চাতুর্মাস’।
কার্তিক মাসের দেবোত্থান (বা দেবোঠান) একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর নিদ্রাভঙ্গ হবে এবং চাতুর্মাসের সমাপ্তি ঘটবে।
চাতুর্মাসে কেন স্থগিত থাকে শুভ অনুষ্ঠান?
শ্রীহরি বিষ্ণু যোগনিদ্রায় প্রবেশ করার কারণে হিন্দু বৈদিক আচার অনুযায়ী চাতুর্মাসের এই চার মাস সমস্ত প্রকার সামাজিক ও শুভ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে।
- বন্ধ থাকবে যেসব কাজ: বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন (পৈতে) এবং যেকোনো নতুন ব্যবসা শুরু করার মতো মাঙ্গলিক কাজ এই চার মাস বর্জনীয়।
- সৃষ্টি পরিচালনার দায়িত্বে মহাদেব: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নারায়ণ যখন নিদ্রায় থাকেন, তখন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড পরিচালনা ও রক্ষাক্ষেত্রের দায়িত্ব পালন করেন দেবাদিদেব মহাদেব।
মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকলেও, আত্মশুদ্ধি, ইষ্টনাম জপ, উপবাস এবং দান-ধ্যানের জন্য চাতুর্মাসকে বছরের সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আষাঢ়ী একাদশী ও ঐতিহাসিক ‘পণ্ঢরপুর ওয়ারি যাত্রা’
দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে আষাঢ়ী একাদশীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার পণ্ঢরপুরে ভগবান বিঠোবা (শ্রীবিষ্ণু/কৃষ্ণের বিশেষ রূপ)-র মন্দিরে আজ সমবেত হন লাখ লাখ ভক্ত।
মাসের পর মাস ধরে শত শত কিলোমিটার পথ পদব্রজে অতিক্রম করে ভক্তরা এই স্থানে উপস্থিত হন, যাকে বলা হয় ঐতিহাসিক ‘পণ্ঢরপুর ওয়ারি’ (Pandharpur Wari)।
দেবশয়নী একাদশীর সঠিক পুজোবিধি ও ব্রতের নিয়ম
আজকের দিনে শ্রীবিষ্ণুর কৃপালাভে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পুজো করা অত্যন্ত জরুরি:
- স্নান ও সঙ্কল্প: সূর্যাস্তের পূর্বে বা ব্রাহ্মমুহূর্তে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বা হলুদ রঙের বস্ত্র পরিধান করতে হয়।
- পঞ্চামৃত ও তুলসী আরতি: বিষ্ণুবিগ্রহ বা চিত্রে পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু, গঙ্গাজল) ঢেলে অভিষেক করিয়ে হলুদ ফুল, হলুদ ফল এবং তুলসী পাতা নিবেদন করতে হয়।
- সাত্ত্বিক আহার: একাদশীর দিন চাল, গম, ডাল বা শস্যজাতীয় খাবার পুরোপুরি বর্জন করা শাস্ত্রসম্মত। ফল, দুধ বা ফলমূল গ্রহণ করে উপবাস পালনের বিধান রয়েছে।
- প্রভু শয়ন করানোর নিয়ম: সন্ধ্যায় বিশেষ আরতির পর ভগবান বিষ্ণুর প্রতীকী বিগ্রহকে নরম তুলা বা বস্ত্রের শয্যায় শুইয়ে শুভ যোগনিদ্রার প্রার্থনা করা হয়।







