নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা | ২৩ মার্চ, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধংদেহী মনোভাবের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে আগুন লেগেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশ জরুরি বৈঠক শুরু করেছে।
কেন উত্তাল বিশ্ব বাজার?
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজি (LNG) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশ এই সরু জলপথটি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে তারা এই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে। ইতিমধ্য়েই অনেক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বর্তমান অবস্থা
- দাম বৃদ্ধি: ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০৭.১৪ ডলারে Upstox ট্রেড করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তেজনা না কমলে এটি খুব শীঘ্রই ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
- পরিবহন খরচ: জাহাজ মালিকরা এখন হরমুজ এড়িয়ে চলতে চাইছেন, যার ফলে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
ভারতের ওপর প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেক এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬০ শতাংশ আমদানি করে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই সংকট ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে:
- মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা: তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর।
- কড়া নজরদারি: কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রক প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখছে।
- বিকল্প উৎস: রাশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর কথা ভাবছে ভারত। এছাড়াও ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে প্রায় ৪৫-৫০ দিনের তেল মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে India Macro Indicators।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম। বর্তমানে তেলের আন্তর্জাতিক দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে ঘরোয়া বাজারেও জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানেও টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের মত: “হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে এটি হবে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয়।” — আইইএ (IEA) রিপোর্ট।
পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দিন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।






