নিউজ ডেস্ক, একুশেপা: অপেক্ষার অবসান! আজ ১৯ মার্চ, ২০২৬ দেশজুড়ে বড় পর্দায় মুক্তি পেল বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar: The Revenge)। পরিচালক আদিত্য ধর এবং অভিনেতা রণবীর সিংয়ের এই স্পাই-থ্রিলার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যে উন্মাদনা ছিল, তা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। কেমন হলো এই সিনেমা? কেনই বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যামি গৌতমকে নিয়ে এত চর্চা? জেনে নিন বিস্তারিত।
গল্পের প্রেক্ষাপট: প্রতিশোধ ও দেশপ্রেমের মিশেল
প্রথম পর্বের সাফল্যের পর ‘ধুরন্ধর ২’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে আন্ডারকভার এজেন্ট জাসকিরাত সিং রাঙ্গিকে (রণবীর সিং) কেন্দ্র করে, যে করাচির অপরাধ জগতে ‘হামজা আলী মাজারি’ ছদ্মনামে অপারেশন চালায়। এবারের মিশন আরও ভয়ঙ্কর। ২৬/১১ হামলার প্রতিশোধ এবং আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদের জাল ছিঁড়ে ফেলার এক টানটান উত্তেজনার গল্প বুনেছেন পরিচালক আদিত্য ধর।
রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স?
সিনেমাটি দেখার পর দর্শকদের বড় অংশই বলছেন, এটি রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। তার কণ্ঠের মডুলেশন থেকে শুরু করে অ্যাকশন সিকোয়েন্স—সবকিছুতেই তিনি অনন্য। প্রায় ৩ ঘণ্টা ৫২ মিনিটের দীর্ঘ রানটাইম সত্ত্বেও রণবীরের স্ক্রিন প্রেজেন্স দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্যও বোর হতে দেয় না।
ইয়ামি গৌতমের সারপ্রাইজ ক্যামিও ও ‘উরি’ কানেকশন
সিনেমাটির সবচেয়ে বড় চমক অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে দেখা গেছে। শোনা যাচ্ছে, তার এই চরিত্রটি আদিত্য ধরের আগের ব্লকবাস্টার ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর গল্পের সাথে কোনোভাবে যুক্ত। যদিও যামি এই সিনেমাটিকে ‘বিয়ন্ড এক্সট্রাঅর্ডিনারি’ (অসাধারণের চেয়েও বেশি) বলে আগেই প্রশংসা করেছিলেন, পর্দায় তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য ছিল উপরি পাওনা।
কলাকুশলীদের দাপট
রণবীর ছাড়াও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন:
- সঞ্জয় দত্ত: এসপি চৌধুরী আসলামের চরিত্রে তার পারফরম্যান্স দারুণ।
- আর. মাধবন: গোয়েন্দা প্রধান অজয় সান্যালের চরিত্রে তার শান্ত কিন্তু দৃঢ় অভিনয় নজর কেড়েছে।
- অর্জুন রামপাল: মেজর ইকবালের চরিত্রে তিনি বেশ ভয়ংকর ও প্রভাবশালী।
কেন দেখবেন ‘ধুরন্ধর ২’? (Quick Highlights)
- অ্যাকশন: ভারতীয় সিনেমায় এমন রিয়্যালিস্টিক অ্যাকশন খুব কম দেখা গেছে।
- সিনেমাটোগ্রাফি: বিকাশ নওলাখার সিনেমাটোগ্রাফি ও রুক্ষ কালার প্যালেট সিনেমাটিকে এক আন্তর্জাতিক মান দিয়েছে।
- টুইস্ট: সিনেমার ক্লাইম্যাক্স এবং পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যটি দেখার জন্য শেষ পর্যন্ত বসে থাকা মাস্ট!
নেতিবাচক দিক:
সিনেমাটির দৈর্ঘ্য (প্রায় ৪ ঘণ্টা) এবং কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভায়োলেন্স সেনসিটিভ দর্শকদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। এছাড়া সিনেমাটি সিবিএফসি থেকে ‘A’ (Adults Only) সার্টিফিকেট পেয়েছে।
বক্স অফিস সম্ভাবনা
অ্যাডভান্স বুকিংয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই সিনেমাটি ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে ফেলেছে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, এটি ২০২৬ সালের সবথেকে বড় ব্লকবাস্টার হওয়ার পথে।
আপনি যদি স্পাই থ্রিলার এবং দেশপ্রেমের সিনেমা পছন্দ করেন, তবে এই উইকএন্ডে ‘ধুরন্ধর ২’ আপনার তালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত। আদিত্য ধরের পরিচালনা আবারও প্রমাণ করল কেন তিনি এই ঘরানার সেরা পরিচালক।
আপনি কি ‘ধুরন্ধর ২’ দেখার পরিকল্পনা করছেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান!






