২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দাপট দেখাচ্ছে শীত। চলতি মরশুমে এই প্রথমবার কলকাতার তাপমাত্রা নেমে এল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১.৭ ডিগ্রি কম। এর ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে মরশুমের শীতলতম দিনের পরিস্থিতি।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও কিছুটা তাপমাত্রা কমতে পারে। এরপর দু’-তিনদিন একই রকম ঠান্ডা বজায় থাকবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ধীরে ধীরে পারদ চড়তে পারে। নতুন বছরের শুরুতে তাপমাত্রা ২–৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বড়সড় আবহাওয়াগত পরিবর্তনের পূর্বাভাস নেই।
গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান বলছে,
- ২৫ ডিসেম্বর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৭ ডিগ্রি
- ২১ ডিসেম্বর তা নেমেছিল ১৪.৪ ডিগ্রি
- ৬ ডিসেম্বর রেকর্ড হয়েছিল ১৪.৫ ডিগ্রি
এদিকে, পশ্চিমের জেলাগুলিতে শীত আরও কড়া। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির কাছাকাছি। আগামী কয়েকদিন সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা থাকতে পারে ১১–১৪ ডিগ্রি।
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ‘শীতল দিন’-এর চরম সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। সেখানে রাতের তাপমাত্রা নামতে পারে ১০ ডিগ্রির নিচে, আর দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪–৫ ডিগ্রি কম থাকতে পারে।
- দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪–৬ ডিগ্রি
- পার্বত্য ও উঁচু এলাকার জেলাগুলিতে ৭–১০ ডিগ্রি
- মালদহ ও সংলগ্ন এলাকায় ৯–১২ ডিগ্রি
এর পাশাপাশি, ঘন কুয়াশার সতর্কতাও জারি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের নিচে নেমে যেতে পারে।
শুধু বাংলা নয়, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যেও জাঁকিয়ে শীত। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, রাজস্থান ও ঝাড়খণ্ডে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, সিকিম, উত্তরাখণ্ড, অসম, মেঘালয়, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশে ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।






