গুরু পূর্ণিমা একটি সনাতনী বৈদিক প্রথা, যার মধ্যে দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এই বছর আগামী ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১সন অর্থা্ৎ ২১শে জুলাই, ২০২৪ রবিবার সারা দেশ জুড়ে পালন করা হবে গুরু পূর্ণিমা তিথি।

‘গুরু’ শব্দটি ‘গু’ অর্থাৎ ‘অন্ধকার’বা ‘অজ্ঞতা’ এবং ‘রু’ শব্দটি ‘অন্ধকার দূরীভূত করা’ এই দুটি অর্থের মিলনে গঠিত হয়েছে। ‘গুরু’ শব্দটি দ্বারা এমন একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ করা হয় যিনি আমাদের মনের সব সংশয়, অন্ধকার, সন্দেহ দূরীভূত করেন ও নতুন পথের আলো দেখান। প্রাচীন আর্য সমাজে গুরু-শিষ্যের যে পারস্পরিক সম্মানবোধ কাজ করত, সেই অনুভূতিকে জাগ্রত করতেই এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়ে থাকে। একটি শ্লোকের মাধ্যমে গুরুপূর্ণিমাতে শ্রী গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা যায়:
‘গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বর
গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ’
অর্থাৎ জীবনে গুরুই হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। তিনিই আমাদের সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের জ্ঞান বা পরম ব্রহ্মজ্ঞান দান করেন। সেই গুরুর উদেশ্যে প্রণাম জানাই।

প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রানুযায়ী গুরু পূর্নিমাকে বেদ ব্যাসের জন্মতিথি হিসাবে ধরা হয় । তিনি চতুর্বেদের ১৮ টি পুরান সম্পাদনা করেন, রচনা করেন মহাভারত ও ভাগবত গীতা। অপরদিকে হিন্দু পুরাণের বিবরণ অনুযায়ী আজকের দিনেই ভগবান শিব প্রথম গুরু হয়েছিলেন তার যোগ বিদ্যা সপ্ত ঋষি – অত্রি , বিশিষ্ট, পূলহ, অঙ্গীরা , পুলোস্থ, মরিচি ও ক্রতুকে দান করে । তাই অনেকে এই দিনে আদি গুরু শিবের উপাসনাও করে থাকেন। অন্যদিকে, জৈন্যদের মতে তীর্থঙ্কর মহাবীরও গুরু পূর্ণিমার দিন গুরু হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেছিলেন । সেই কারণে জৈন্য ধর্মের মানুষেরাও এই দিনটিকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সাথেই পালন করেন।
বাংলা আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতেই গুরুপূর্ণিমা পালন করা হয়। এই দিনে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়, কারণ গুরুদের বচনকে পাথেয় করার মাধ্যমেই এগিয়ে চলা সকলের জীবনের মূল লক্ষ্য। তাই ধর্মীয় শাস্ত্রেও দিনটির মাহাত্ম্য অনেক বেশি।






