একুশে পা ডিজিটাল | ১ জুলাই ২০২৬
রাজ্যের বন্ধ জুটশিল্পকে ফের চাঙ্গা করতে বড় উদ্যোগ নিল শ্রম দপ্তর। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ১৮টি বন্ধ জুটমিল চালুর লক্ষ্য নিয়ে একের পর এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করছেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ ও শ্রম দপ্তরকে নিয়ে সমাধানসূত্র খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে জোরকদমে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে বরানগর জুটমিল, জগদ্দল জুট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এমকো জুটমিল চালুর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে সব পক্ষ। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই তিনটি জুটমিল চালু হলে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নৈহাটি জুটমিলও খুলছে ৩ জুলাই
সোমবার শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে নৈহাটি জুটমিল নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩ জুলাই থেকে নৈহাটি জুটমিল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই জগদ্দলের অ্যালায়েন্স জুটমিল উৎপাদন শুরু করেছে। পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে কাঁকিনাড়া জুটমিলও চালু হচ্ছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক বন্ধ জুটমিলে ফের উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।
হাওড়ার ভারত জুটমিল নিয়েও বৈঠক
শুধু উত্তর ২৪ পরগনাই নয়, হাওড়ার দাশনগরের ভারত জুটমিল নিয়েও পৃথক বৈঠক করেছেন শ্রমমন্ত্রী। সেখানে শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি, পিএফ, ইএসআই-সহ সমস্ত আইনগত প্রাপ্য খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী বললেন শ্রমমন্ত্রী?
শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন,
“আমরা আশা করছি ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ১৮টি জুটমিল খুলে দিতে পারব। তাই জুট কমিশনার, পিএফ, ইএসআই এবং ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হচ্ছে। শ্রমিকদের প্রাপ্য যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনই দায়িত্ব নিয়েও কাজ করতে হবে। একইভাবে মালিকপক্ষকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। ইউনিয়ন, ম্যানেজমেন্ট ও শ্রমিক—সব পক্ষের সমন্বয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
শ্রম দপ্তরের আশা, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জুটমিলগুলিতে দ্রুত উৎপাদন শুরু হলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরবে এবং রাজ্যের জুটশিল্পও নতুন গতি পাবে।






