পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

দুর্গাপুজোয় বড় আয়োজন! মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে বিশেষ কর্মসূচি, আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে

মহালয়া উপলক্ষে দুর্গাপুজোর বিশেষ অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য আয়োজনের ইডেন গার্ডেন্স প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে বাড়তি নজর

মহালয়ার দিন ইডেনে মেগা অনুষ্ঠান, নজর বাংলার শারদোৎসবে
দুর্গাপুজো ২০২৬-কে সামনে রেখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার দিন বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যে শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রস্তাবিত কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ইডেন গার্ডেন্সকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সরকারি ব্যবহারের জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্টেডিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যাতে অনুষ্ঠান-পূর্ব প্রস্তুতি ও পরবর্তী অস্থায়ী কাঠামো সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে।
প্রকাশিত পরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রোন শো, আতশবাজি, ভিজ্যুয়াল প্রজেকশন এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির নানা উপাদান রাখার কথা উঠে এসেছে। ফলে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন এবার পুজোর আগমনী অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হতে চলেছে।


ইডেন গার্ডেন্সে কী কী থাকছে মহালয়ার কর্মসূচিতে?

প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটি কয়েক ঘণ্টাব্যাপী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় চার ঘণ্টার কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ড্রোন প্রদর্শনী এবং দুর্গাপুজোর আবহকে তুলে ধরার জন্য বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা।
আরও বড় পরিসরে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত অনুষ্ঠানের নকশায় বিপুল সংখ্যক শিল্পীর অংশগ্রহণ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, শঙ্খধ্বনি এবং বিভিন্ন জেলার লোকনৃত্যকে সামনে আনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ‘মা আসছেন—উমা স্টোরি’ ধরনের থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিংয়ের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোর পৌরাণিক আবহ, বাংলার সংস্কৃতি এবং দেবী দুর্গার আগমনকে প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চসজ্জার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মহালয়া সাধারণত বাঙালির কাছে দেবীপক্ষের সূচনা এবং দুর্গাপুজোর আগমনী আবহের সঙ্গে যুক্ত। সেই দিন ইডেনের মতো বৃহৎ স্টেডিয়ামে এমন আয়োজন হওয়ায় এবারের পুজোর সূচনাকে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


মোদিকে আমন্ত্রণ, বদলাচ্ছে পুজোর সরকারি অনুষ্ঠানের ধরন

মহালয়ার ইডেন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। কিছু প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতির পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমার চক্ষুদান বা উদ্বোধনী আচারেও তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অংশটি এখনও পরিকল্পনা বা সম্ভাবনার স্তরেই রয়েছে।
সরকারি পুজো উদযাপনের ধরনেও এ বছর পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। আগের বছরগুলিতে পুজোর পর রেড রোডে আয়োজিত কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইডেন থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের পুজোর সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে কলকাতার একটি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানকে রাজ্যের বিস্তৃত শারদোৎসবের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য স্পষ্ট হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল রেড রোডকে এবার পুজোর আগের একটি সাংস্কৃতিক রোডশোর জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা। বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলার বৈচিত্র্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

ইডেন ঘিরে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা

বড় আকারের অনুষ্ঠান হওয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্টেডিয়ামের মাঠ ও ক্রিকেট-পরিকাঠামোর যাতে ক্ষতি না হয়, সেই অনুযায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ, ভিআইপি ব্যবস্থাপনা, মঞ্চ এবং স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ইডেন গার্ডেন্সের স্বাভাবিক ক্রিকেট সূচিতেও এই আয়োজনের প্রভাব পড়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্টেডিয়াম ব্যবহারের পরিকল্পনার কারণে নির্ধারিত ক্রিকেট কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।


বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য

এই মহালয়া অনুষ্ঠানকে শুধু কলকাতার একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না সরকার। বাংলার দুর্গাপুজোকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইডেনের মঞ্চে লোকসংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় ও জনপ্রিয় সংগীত, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যকে একত্র করার পরিকল্পনা সেই লক্ষ্যকেই সামনে আনে। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালি এবং দেশের অন্য প্রান্তের দর্শকদের কাছেও এই অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে প্রস্তাবিত এই মেগা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানানো হয়েছে, যদিও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা এখনও আলাদা করে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

দুর্গাপুজো


ড্রোন শো, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থ্রিডি ভিজ্যুয়াল এবং বাংলার লোকশিল্পকে এক মঞ্চে আনার পরিকল্পনা এবারের দুর্গাপুজোর সূচনাকে আলাদা মাত্রা দিতে পারে। এখন নজর ১০ অক্টোবরের মহালয়া অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সূচি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সংক্রান্ত সরকারি নিশ্চিত ঘোষণার দিকে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!