নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার পথচলতি বাস যেন শহরের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। কিন্তু জানেন কি, এই শহরে প্রথম বাস চলেছিল প্রায় ১৯৫ বছর আগে, অর্থাৎ ১৮৩০ সালে? বারাকপুর থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ঘোড়ায় টানা সেই বাসই ছিল কলকাতার প্রথম গণপরিবহন। আর সেই ইতিহাসই ফিরে দেখা গেল মঙ্গলবার, ‘বাস যাত্রা ৩.০’-র আয়োজনে।
‘কলকাতা বাস-ও-পিডিয়া’ নামে একদল বাসপ্রেমী তরুণের উদ্যোগে তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত হল এই অনন্য প্রদর্শনী ও যাত্রা। এবারে অংশ নেয় ২৩৮ ও ৬৩ রুটের বাস এবং আধুনিক সরকারি সিএনজি ও এসি ভলভো বাস। প্রদর্শনীর প্রতিটি বাসের অন্দরমহল সাজানো হয়েছিল ইতিহাসের দলিল দিয়ে—ঘোড়ায় টানা বাসের ছবি, ব্রিটিশ আমলের বাসের টিকিট, পুরনো দোতলা বাসের প্রতিরূপ, এমনকি লন্ডন থেকে কলকাতায় আগত বাসের ছবিও।

‘এল ২৩৮’ রুটের বাসটি ছিল এই প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। সংগঠনের সদস্য অনিকেত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এল সিরিজের বাস এখন বিরল। কিন্তু এই রুটের বাসে এখনও দুটি দরজা রয়েছে—যা একে আলাদা করে তোলে।”
শুধু পুরনো স্মৃতি নয়, বাসপ্রেমীদের এই সংগঠন নিয়মিত প্রকাশ করে একটি ‘বাস বুলেটিন’, যেখানে শহরের নতুন ও পুরনো বাসরুট, মডেল, এবং বাস নম্বরের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে কলকাতা ও জেলার বাসের বিবর্তন—
ঘোড়ায় টানা বাস → দোতলা বাস → মার্সিডিজ বাস → মিনি বাস → সিএনজি ও ভলভো।
এই ঐতিহাসিক বাসযাত্রা হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হয়ে এসপ্ল্যানেড ও রবীন্দ্র সদন ঘুরে আবার হাওড়া ফিরে আসে। দর্শকদের ভিড়ে মুখরিত ছিল প্রতিটি স্টপেজ। প্রবীণরা স্মৃতিচারণায় বলছিলেন, “তিন পয়সায় টিকিট কেটেও কলেজে যেতাম!” আবার কেউ আফসোস করলেন, “সেই পুরনো টিকিটগুলো যদি এখনও থাকত!”
সব মিলিয়ে, এই ‘বাস যাত্রা ৩.০’ হয়ে উঠল শহরের ১৯৫ বছরের বাস ইতিহাসের এক নস্টালজিক উদ্যাপন। ১৮৩০ সালের সেই প্রথম ঘোড়ায় টানা বাসের থেকে আজকের আধুনিক ভলভো পর্যন্ত—কলকাতা আজও বাসের চাকার ঘূর্ণনে এগিয়ে চলেছে তার নিজের ছন্দে।






