পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে যখন কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আনন্দে মাতোয়ারা গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই বাঁকুড়ার এক প্রত্যন্ত গ্রাম অন্য এক অনন্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের রামকানালি গ্রামে ধনদেবী লক্ষ্মী পূজিতা হন ‘গজলক্ষ্মী’ রূপে—যেখানে দেবীর বাহন প্যাঁচা নয়, বরং রাজসিক হাতি!

গ্রামের মাহিষ্য জনগোষ্ঠীর মানুষ গত প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ বছর ধরে এই পুজো করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস—ক্ষেতের ফসল রক্ষা ও গ্রামবাসীর সমৃদ্ধির জন্য এই বিশেষ রূপেই ধনদেবীর আরাধনা করা হয়।
একসময় এই জনগোষ্ঠীর জীবিকা ছিল একমাত্র কৃষিকাজ। ক্ষেতের ফসলই ছিল তাদের জীবনের মূল ভরসা। রামকানালি গ্রামের আশেপাশে রয়েছে গভীর জঙ্গল, যেখানে বহুদিন ধরে বুনো হাতির বসবাস। মাঝেমধ্যে এই হাতির পাল গ্রামে ঢুকে ফসল নষ্ট করত। সেই সময় থেকেই শুরু হয় গজলক্ষ্মী পূজো—ক্ষেত ও ফসল রক্ষার আশীর্বাদ কামনায়।

ধনদেবীর প্রতিমার রূপেও আসে পরিবর্তন। এখানে দেবীকে দেখা যায় গজরাজের পিঠে আসীন অবস্থায়—যার নামেই প্রচলিত হয় ‘গজলক্ষ্মী’।
আগে এই পূজা অনুষ্ঠিত হত হ্যাজাকের আলোয়, কিন্তু এখন সময় বদলেছে। আজ সেই স্থানে এসেছে রঙিন আলোর ঝলকানি, থিম প্যান্ডেল ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রামকানালি গ্রামে কোনও দুর্গাপুজো হয় না। বরং শারদোৎসবের সময় থেকেই শুরু হয় গজলক্ষ্মী পূজোর তোড়জোড়।
গ্রামের মানুষ বলেন, “আমাদের এই পূজো আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক। দেবী গজলক্ষ্মী আমাদের রক্ষা করেন, ফসলের সুরক্ষা দেন।”

প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই ব্যতিক্রমী পূজা দেখতে আসেন। গজলক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামে এখন উৎসবের আমেজ।






