স্কুল, হাসপাতাল, স্টেশন চত্বর থেকে পথ কুকুরদের সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের — আট সপ্তাহে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে

স্কুল, হাসপাতাল, স্টেশন চত্বর থেকে পথ কুকুরদের সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের — আট সপ্তাহে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে
স্কুল, হাসপাতাল, স্টেশন চত্বর থেকে পথ কুকুরদের সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: রেলস্টেশন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড কিংবা স্পোর্টস কমপ্লেক্স—যেখানেই জনসমাগম বেশি, সেখান থেকে পথ কুকুরদের সরাতেই হবে। শুক্রবার এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আট সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পথকুকুরের কামড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানি শেষে বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়—সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকা থেকে অবিলম্বে পথকুকুরদের সরাতে হবে।

কোথায় রাখা হবে এই কুকুরগুলো?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের পর কুকুরদের আর আগের এলাকায় ফেরানো যাবে না। তাদের রাখতে হবে নির্দিষ্ট শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত পরিদর্শনে যেতে হবে যাতে জনবহুল এলাকায় পথকুকুর না থাকে, তা নিশ্চিত করা যায়।

রাস্তার গবাদি পশু নিয়েও নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট এদিন আরও জানায়, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক থেকে গবাদি পশুদেরও সরিয়ে নিতে হবে। এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সড়ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর। রাস্তা থেকে গবাদি পশু সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং নজরদারির জন্য পৃথক টিমও গঠন করতে হবে।

মিমি চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া
এই নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিনেত্রী ও তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, “পথকুকুরদের সরিয়ে কোথায় রাখা হবে? কতগুলি শেল্টার আছে? কতগুলি নির্বীজকরণ শিবির হয়?” তিনি আরও বলেন, “একটা মানবিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। পথপ্রাণীদেরও বাঁচার অধিকার আছে।”

প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও মানবিক দায়িত্ব
একদিকে জননিরাপত্তার জন্য এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রাণীপ্রেমীরা এটিকে ‘অমানবিক’ বলে দাবি করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আট সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারগুলি কীভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করে এবং একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে।


সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ দেশের প্রতিটি রাজ্যের প্রশাসনের কাছে এক বড় পরীক্ষা—জননিরাপত্তা রক্ষা ও প্রাণিকল্যাণের ভারসাম্য কতটা রক্ষা করা যায়, সেটাই এখন দেখার।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!