নিজস্ব সংবাদদাতা | কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক প্রশাসন।
কোথায় অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু?
পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে সেটি। আবহাওয়াবিদদের নজর এখন ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কখন এবং কোথায় হবে ল্যান্ডফল?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, ২ নভেম্বর রাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে মুরাসু। ওঙ্গোলের কাছাকাছি ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে।
ল্যান্ডফলের সময় ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, উত্তাল সমুদ্র
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ ওডিশার একাধিক জেলাতেও ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। উপকূলবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে কি পড়বে মুরাসুর প্রভাব?
মুরাসুর সম্ভাব্য গতিপথ মূলত দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলকে কেন্দ্র করে। পশ্চিমবঙ্গে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে বাংলার আবহাওয়া নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
কেন বারবার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ছে বঙ্গোপসাগর?
বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ ঘূর্ণিঝড় তৈরির অন্যতম কারণ। একটি ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পরেও সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয় না। ফলে একই মরশুমে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে।
অর্ণবের পর এবার মুরাসু। নতুন এই ঘূর্ণিঝড়কে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায়। এখন নজর মুরাসুর গতিপথ এবং আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তার দিকে।






