ফুটবলভক্তদের রায় মিলে গেল। প্রথমবার আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অফ অল টাইম, অর্থাৎ B.O.A.T ভোটে সর্বকালের সেরা জয়ী মরসুম হিসেবে উঠে এল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ২০০৮ সাল। দ্বিতীয় স্থানে লিওনেল মেসির ২০১২।
ফ্রান্স ফুটবলের এই ভোট চলে অক্টোবর জুড়ে। ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে (প্যারিসের সময়) ভোট শেষ হয়, আর ২৮ অক্টোবর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয় চূড়ান্ত ফল।
একটি বিষয় এখানে স্পষ্ট থাকা দরকার। সমর্থকরা বেছেছেন কোনো খেলোয়াড়কে নয়, ব্যালন ডি’অর জেতার একটি নির্দিষ্ট বছরকে। তাই এটি “সেরা ফুটবলার” নির্ধারণের ভোট নয়।
তবু ফলাফল নতুন করে উসকে দিয়েছে রোনাল্ডো-মেসি বিতর্ক। প্রশ্ন একটাই: কেন এত বছর পরেও ২০০৮ সালের রোনাল্ডোই সবার সেরা?
২০০৮: যে বছর বিশ্ব চিনল রোনাল্ডোকে
২০০৭-০৮ মরসুমে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ গোল করেন রোনাল্ডো, যার মধ্যে ৩১টি প্রিমিয়ার লিগে। ওই মরসুমে ইউনাইটেড প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটো ট্রফিই জেতে। সঙ্গে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।
ওই বছরের ব্যালন ডি’অরে তিনি পান ৪৪৬ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসি ২৮১। এই জয়ের সুবাদে ইউসেবিও (১৯৬৫) ও লুইস ফিগোর (২০০০) পর তৃতীয় পর্তুগিজ হিসেবে পুরস্কারটি জেতেন তিনি।
শীর্ষ দশে শুধুই রোনাল্ডো ও মেসি
চূড়ান্ত তালিকায় প্রথম দশটি স্থান ভাগ করে নিয়েছেন এই দুই মহাতারকা, পাঁচটি করে মরসুম নিয়ে। ২০০৮-এর পরে রয়েছে মেসির ২০১২ এবং রোনাল্ডোর ২০১৭। এরপর মেসির ২০২৩, যে বছর তিনি বিশ্বকাপ জিতে অষ্টম ব্যালন ডি’অর পান।
মেসির ২০১২ ছিল এক ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোলের রেকর্ডের বছর। তবু ভোটের শেষ সপ্তাহের আগে রোনাল্ডোর ২০০৮ ছিল প্রায় ৬২ শতাংশে, মেসির ২০১২ প্রায় ১৩ শতাংশে।
ভোটের নিয়ম: কতটা গ্রহণযোগ্য এই রায়?
এই ভোটের প্রতিটি ভোটের দাম ছিল ১ ইউরো, এবং একই মরসুমের জন্য একাধিকবার ভোট দেওয়া যেত। ফলে ফলাফল আসলে সমর্থকদের উৎসাহ ও ভোটের পরিমাণের প্রতিফলন, কোনো বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রায় নয়।
সঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার যে এই স্বীকৃতির সঙ্গে আলাদা কোনো ট্রফি নেই। তাই এটি রোনাল্ডো-মেসি তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়, বরং ভক্তদের আবেগের একটি প্রতীকী ছবি।
১৮ বছর পেরিয়েও ২০০৮ সালের রোনাল্ডোকে সমর্থকরা সবার ওপরে রেখেছেন। এটাই প্রমাণ করে, একটি নিখুঁত মরসুম ফুটবলের স্মৃতিতে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
রোনাল্ডো না মেসি, এই বিতর্ক হয়তো কখনও থামবে না। কিন্তু এই ভোট অন্তত দেখিয়ে দিল, ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ২০০৮-এর রোনাল্ডো আজও অম্লান।






