মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন। ভারত-ভিত্তিক এসার গ্রুপের মালিকানাধীন মেসাবি মেটালিক্স আইওয়াতে গড়ে তুলছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্টিল প্ল্যান্ট। বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।
এই ঘোষণা এসেছে এমন সময়ে যখন মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। ট্রাম্পের পাশে ছিলেন এসার গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি রুইয়া ও তাঁর ছেলে রেওয়ান্ত রুইয়া। তাঁদের উপস্থিতি এই বিনিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
রেওয়ান্ত রুইয়া বলেন, “আমার জীবনের অর্ধেক আমেরিকায় কাটিয়েছি। আজকের এই ঘোষণা আমার কাছে সত্যিকারের হোমকামিং।”
প্রকল্পের পরিধি ও উৎপাদন ক্ষমতা

নতুন প্ল্যান্টটি বছরে ১০ মিলিয়ন টন স্টিল উৎপাদন করবে। এটি হবে আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম।
কাঁচামাল আসবে মিনেসোটার ন্যাশওয়াকে নতুন খনি থেকে, যেখানে এসার গ্রুপ ইতিমধ্যেই ২.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই খনি থেকে বছরে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন টন লৌহ আকরিক উৎপাদন হবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই প্রকল্পে আইওয়াতে ১,৭৫০ স্থায়ী চাকরি সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মিনেসোটার খনিতে আরও ৩৫০ জন কর্মসংস্থান পাবেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি, এটি হবে আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্টিল প্ল্যান্ট।” তাঁর এই ঘোষণা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড।
এসার গ্রুপের মার্কিন উপস্থিতি

এসার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছে। মেসাবি আয়রন রেঞ্জে নতুন খনি তৈরি করা হয়েছে—যা গত ৫০ বছরে প্রথম নতুন লৌহ খনি।
রেওয়ান্ত রুইয়া বলেন, “এই প্ল্যান্ট বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে এবং আকার, গুণমান ও খরচে যেকোনো স্টিল প্ল্যান্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।”
আইওয়াতে এসার গ্রুপের নতুন স্টিল প্ল্যান্ট শুধু মার্কিন অর্থনীতির জন্য নয়, ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়। ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও শিল্পক্ষেত্রে এটি হবে এক যুগান্তকারী বিনিয়োগ।








