পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

লতা মঙ্গেশকর ও বাংলা: তাঁর প্রিয় বাংলা গানের অন্তরালের গল্প

লতা মঙ্গেশকর বাংলা সুরকারদের সঙ্গে কাজ করছেন

ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে লতা মঙ্গেশকর এক অনন্য নাম। হিন্দি চলচ্চিত্রের অগণিত গান তাঁকে অমর করেছে, কিন্তু বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বিশেষ আবেগময়। কলকাতার সঙ্গীতজগত, বাংলা গানের সুরকারদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ এবং শ্রোতাদের ভালোবাসা তাঁকে বাংলার মাটিতে এক আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

বাংলা ভাষায় তাঁর গাওয়া গানগুলো শুধু সুরের সৌন্দর্য নয়, আবেগের গভীরতাও বহন করে। “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে” কিংবা “আকাশ প্রান্তে”–এর মতো গান আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন।

লতা মঙ্গেশকর নিজেই বহুবার বলেছেন, বাংলা তাঁর কাছে ছিল দ্বিতীয় মাতৃভাষার মতো। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে আধুনিক বাংলা গান—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের কণ্ঠে এক অনন্য আবহ তৈরি করেছিলেন।


বাংলায় লতা: প্রথম পরিচয়

১৯৫০-এর দশকে লতা মঙ্গেশকর প্রথমবার বাংলা গানে কণ্ঠ দেন। সলিল চৌধুরী ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো সুরকাররা তাঁকে বাংলার সুরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁদের সুরে লতার কণ্ঠ যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

“ও পালকী ও পালকী” কিংবা “রাঙা হলুদ সাড়ি”–এর মতো গান সেই সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছিল। কলকাতার রেকর্ড কোম্পানিগুলো তাঁর গান প্রকাশ করে, আর বাঙালি শ্রোতারা তাঁকে নিজেদের শিল্পী হিসেবে গ্রহণ করে।


সলিল চৌধুরী ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সহযোগিতা

সলিল চৌধুরী ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে লতা মঙ্গেশকর

সলিল চৌধুরীর আধুনিক সুরে লতার কণ্ঠ এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। তাঁর গান “আকাশ প্রান্তে” আজও বাঙালির আবেগের অংশ। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুগলবন্দী করে তিনি বহু অমর গান উপহার দিয়েছেন।

এই সহযোগিতা শুধু সঙ্গীতের ক্ষেত্রেই নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হিন্দি ও বাংলা গানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন লতা। তাঁর কণ্ঠে বাংলা গান ভারতের অন্যান্য প্রান্তেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


বাংলার শ্রোতাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা

কলকাতায় লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

২০২২ সালে তাঁর প্রয়াণের পর কলকাতা জুড়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তাঁর স্মৃতিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। মঞ্চে তাঁর বাংলা গানগুলো আবারও বাজতে থাকে, যেন তিনি এখনও উপস্থিত।

বাঙালি শ্রোতাদের কাছে লতা শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আবেগের প্রতীক। তাঁর কণ্ঠে বাংলা গান শুনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় হয়েছে।


লতা মঙ্গেশকর ও বাংলার সম্পর্ক ছিল হৃদয়ের। তাঁর বাংলা গানগুলো আজও শ্রোতাদের মনে আবেগ জাগায়। সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো সুরকারদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা বাংলা গানের ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়। কলকাতার শ্রোতারা তাঁকে আজও নিজেদের শিল্পী হিসেবে মনে করেন।

Afrin Sultana

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!