পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

৯৯ বছরে ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব, শতবর্ষের দোরগোড়ায় ঐতিহ্যের মহামিলন

৯৯ বছরে ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব, শতবর্ষের দোরগোড়ায় ঐতিহ্যের মহামিলন

ভবানীপুরের কাঁসারী পাড়া এবার সাক্ষী এক বিশেষ মাইলফলকের। দীর্ঘ ৯৯ বছরের পথ পেরিয়ে শতবর্ষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এক শতাব্দীর কাছাকাছি সময় ধরে এই পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পাড়ার মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে শহরের জীবনযাত্রা। তবু দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কাঁসারী পাড়ার চেনা আবহে আজও ফিরে আসে পুরনো দিনের স্মৃতি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নতুন প্রজন্মের উদ্যম মিলিয়ে তৈরি হয় উৎসবের নিজস্ব ছন্দ।
৯৯ বছরের এই যাত্রাপথে পুজো দেখেছে বহু পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ভাবনা, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন মুখ। কিন্তু ঐতিহ্যের মূল সুরটুকু ধরে রাখার চেষ্টা আজও সমানভাবে জারি রয়েছে। তাই শতবর্ষের আগে এই বছরটি হয়ে উঠেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথ, স্মৃতিতে জড়ানো পুজো
এই পুজোর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাঁসারী পাড়ার বহু পরিবারের স্মৃতি। কারও কাছে এটি শৈশবের পুজো, কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো উৎসবের দিন, আবার কারও কাছে পরিবারের একাধিক প্রজন্মকে একসঙ্গে পাওয়ার উপলক্ষ।
পাড়ার প্রবীণদের কাছে ৯৯ বছরের এই পথচলা নিছক একটি সংখ্যা নয়। এর সঙ্গে মিশে রয়েছে পুরনো দিনের আয়োজন, প্রতিমা দর্শনের স্মৃতি, পুজোর প্রস্তুতি এবং পাড়ার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের অসংখ্য গল্প।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে পুজোর আয়োজনেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবে তার মধ্যেও পুরনো ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির আবহ ধরে রাখাই এই দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


প্রজন্মান্তরের অংশগ্রহণেই উৎসবের প্রাণ

একটি সর্বজনীন পুজোর প্রাণ তার মানুষ। ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবেও সেই ছবিই স্পষ্ট। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো কিংবা বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা—নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
একই সঙ্গে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশ। পুরনো রীতিনীতি ও স্মৃতিকে সঙ্গে রেখে তরুণরা নিজেদের ভাবনা যোগ করছেন। ফলে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে তৈরি হচ্ছে একটি স্বাভাবিক সেতুবন্ধন।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গোৎসব


এই আন্তঃপ্রজন্মের অংশগ্রহণই পুজোটিকে কেবল একটি বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। এটি হয়ে ওঠে পাড়ার সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে পরিচিতির গণ্ডি পেরিয়ে তৈরি হয় মিলন ও সম্প্রীতির পরিবেশ।


শতবর্ষের আগে বিশেষ আবহ

৯৯ বছর পূর্ণ করার এই বিশেষ মুহূর্তে ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। শতবর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রা পাড়ার মানুষের কাছে যেমন গর্বের, তেমনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার।

৯৯ বছরে ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া দুর্গোৎসব, শতবর্ষের দোরগোড়ায় ঐতিহ্যের পুজো

এবারের উৎসব তাই অতীতকে স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকেও তাকিয়ে থাকার সুযোগ। পুরনো দিনের আবেগ, বর্তমানের উদ্যম এবং আগামী দিনের প্রত্যাশা—তিনটি স্তর মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই বছরের বিশেষ আবহ।


ভবানীপুর কাঁসারী পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের ৯৯ বছরের পথচলা আসলে একটি পুজোর ইতিহাসের চেয়েও বড়। এটি একটি পাড়ার মানুষ, সম্পর্ক, স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার গল্প। শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহ্য এবার আরও নতুনভাবে উদযাপনের অপেক্ষায়।

Afrin Sultana
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!