নিউজ ডেস্ক:
আজ, বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী তিথিতে সারা বাংলা জুড়ে পালিত হচ্ছে অন্নপূর্ণা পুজো। বাসন্তী পুজোর অষ্টমীর সঙ্গেই মিল রেখে বহু ঘরে ও মন্দিরে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও সমৃদ্ধির দেবী, যিনি জীবজগতের খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করেন।
📌 চৈত্র অষ্টমী ও অন্নপূর্ণা পুজোর তাৎপর্য
চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো বিশেষভাবে প্রচলিত। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এই দিনে ভোগ নিবেদন, অন্নদান এবং ব্রত পালনের রীতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই পুজো বাসন্তী দুর্গাপুজোর অষ্টমীর সঙ্গে একত্রে পালিত হয়।
ধর্মীয় মতে, কাশী ধামে মা অন্নপূর্ণার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, কাশী বিশ্বনাথ দর্শনের আগে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো সম্পূর্ণ করা উচিত।
🍚 অন্নকূট উৎসব ও আচার
এই দিনে কাশীতে পালিত হয় অন্নকূট উৎসব। ভক্তরা ব্রত পালন করেন এবং আমিষ, মাদক বা ধূমপান থেকে বিরত থাকেন।
- সাদা পোশাকে পুজো দেওয়ার রীতি প্রচলিত
- অন্নদানকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়
- ভিক্ষুকদের আতপ চাল দান করলে পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস
🕉️ পৌরাণিক কাহিনীর সূত্র
পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, মা পার্বতী অন্নপূর্ণা রূপে আবির্ভূত হয়ে ভগবান শিবকে অন্ন দান করেন। সেই অন্নের মাধ্যমেই পৃথিবীর খাদ্যাভাব দূর হয় বলে বিশ্বাস।
আরেক মতে, দেবীর কৃপায় মহাদেব ভিক্ষা লাভ করেন এবং সেই থেকেই অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন শুরু।

বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন করেন ভবানন্দ মজুমদার। যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
বাংলার ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যেও দেবীর মাহাত্ম্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
🍛 মায়ের প্রিয় ভোগ
অন্নপূর্ণা পুজোয় সাধারণত নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়।
প্রচলিত ভোগের মধ্যে রয়েছে—
- ভাত
- মুগ ডাল
- শাক ও ভাজা
- মোচার ঘন্ট
- ছানার ডালনা
বিশ্বাস করা হয়, এই ভোগে দেবী সন্তুষ্ট হন এবং ভক্তের জীবনে অন্ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।






