নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোনের এক ক্লিকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসছে মোটা অঙ্কের লোন। উৎসবের কেনাকাটা হোক বা চিকিৎসার জরুরি খরচ— ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। কিন্তু মনে রাখবেন, পার্সোনাল লোন যতটা সহজলভ্য, নিয়ম না জানলে এটি ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৬-এর নতুন ব্যাঙ্কিং নিয়ম এবং আরবিআই-এর (RBI) নির্দেশিকা অনুযায়ী, লোন নেওয়ার আগে ৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
১. সুদের হার ও নতুন ‘ফ্লোটিং রেট’ নিয়ম
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পার্সোনাল লোনের সুদের হার সাধারণত ৯.৭৫% থেকে শুরু করে ২২% পর্যন্ত হতে পারে। তবে বড় খবর হলো, আরবিআই-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাঙ্কগুলিকে লোন দেওয়ার সময় ‘ফিক্সড’ (Fixed) এবং ‘ফ্লোটিং’ (Floating) রেটের মধ্যে বেছে নেওয়ার স্পষ্ট সুযোগ দিতে হবে। আবেদন করার আগে দেখে নিন আপনার সুদের হার কি বাজারের সাথে ওঠানামা করবে, নাকি একই থাকবে।
২. ফোরক্লোজার চার্জ ও আরবিআই-এর নতুন স্বস্তি
আগে লোন সময়ের আগে শোধ করতে গেলে (Foreclosure) ব্যাঙ্কগুলি ৩-৫ শতাংশ জরিমানা নিত। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নেওয়া ফ্লোটিং রেট লোনের ক্ষেত্রে কোনো ফোরক্লোজার বা পার্ট-পেমেন্ট চার্জ নেওয়া যাবে না। লোন নেওয়ার সময় এগ্রিমেন্টে এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৩. প্রসেসিং ফি ও লুকানো খরচ (Hidden Charges)
লোন মঞ্জুর হওয়ার সময় ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত ১% থেকে ৩% প্রসেসিং ফি কাটে। এর সাথে যোগ হয় ১৮% জিএসটি। উদাহরণস্বরূপ, ৫ লক্ষ টাকা লোন নিলেও সব ফি কেটে আপনার হাতে হয়তো ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা আসবে। এছাড়া লোন এগ্রিমেন্টে স্ট্যাম্প ডিউটি বা ডকুমেন্টেশন চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা কাটা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে নিন।
৪. সিবিল (CIBIL) স্কোরের ওপর প্রভাব
একটি লোন রিজেক্ট হলে বা বারবার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে লোনের জন্য আবেদন করলে আপনার ক্রেডিট স্কোর বা সিবিল স্কোর দ্রুত কমে যেতে পারে। মনে রাখবেন, ২০২৬-এর নিয়ম অনুযায়ী, যাদের স্কোর ৭৫০-এর উপরে, তারাই সবচেয়ে কম সুদে লোন পাওয়ার যোগ্য। স্কোর কম থাকলে ব্যাঙ্ক আপনার থেকে অনেক বেশি সুদ দাবি করতে পারে।
৫. ইএমআই বাউন্স ও পেনাল চার্জের কড়াকড়ি
কিস্তি বা ইএমআই (EMI) দিতে এক দিন দেরি হলেও এখন ব্যাঙ্কগুলি মোটা অঙ্কের ‘লেট পেমেন্ট চার্জ’ এবং ‘বাউন্স চার্জ’ ধার্য করে। আরবিআই-এর নির্দেশ অনুযায়ী, এই পেনাল্টি যেন মূল সুদের হারের চেয়ে অত্যাধিক বেশি না হয়। লোন নেওয়ার আগে নিজের মাসিক আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইএমআই ঠিক করুন, যাতে কোনোভাবেই কিস্তি মিস না হয়।
ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার আগে কেবল টাকার অঙ্ক না দেখে লোনের শর্তাবলী বা ‘ফাইন প্রিন্ট’ খুঁটিয়ে পড়ুন। আপনার আজকের সচেতনতাই আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।






