পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান। পিডিএস (Party of Democratic Socialism)-এর প্রতিষ্ঠাতা-নেতা এবং প্রাক্তন সিপিআই(এম) সংগঠক সমীর পুততুণ্ড প্রয়াত। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার রাতে কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
রাজনৈতিক মহলে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ছাত্রজীবন থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সমীর পুততুণ্ড। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সিপিআই(এম)-এর সংগঠনে তিনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। দক্ষ সংগঠক ও কৌশলী রাজনৈতিক মস্তিষ্ক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল—এই কারণেই রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন বাম রাজনীতির ‘চাণক্য’ নামে।
পরবর্তীকালে দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক লাইনের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি সিপিআই(এম) ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর সইফুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে পিডিএস (Party of Democratic Socialism) গঠন করেন।
যাদবপুর থেকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম: বিতর্ক ও প্রভাব
রাজনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে সক্রিয় ছিলেন সমীর পুততুণ্ড। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়াও ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি এবং তাঁর স্ত্রী অনুরাধা পুততুণ্ড তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান। এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীর পুততুণ্ডের মরদেহ দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাঁর আদি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
রাজনৈতিক মহলে শোক
সমীর পুততুণ্ডের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত বোধ করছি। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি। অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।’
একদা বাম আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা সমীর পুততুণ্ডকে হারিয়ে আমি খুবই মর্মাহত বোধ করছি। মনে হচ্ছে, আমি নিজের কাউকে হারালাম। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে একসাথে কাজ করেছি।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 11, 2026
অনুরাধাদিকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই, তবুও সর্বদা পাশে আছি।
শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে বহু রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সমাজকর্মী তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। রাজ্য রাজনীতিতে সংগঠক ও কৌশলবিদ হিসেবে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।






