১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪: আগামীকাল, মঙ্গলবার বিশ্বকর্মা পুজো। তার পাশাপাশি, সামনে শুরু হচ্ছে পুজোর মরসুম, যে সময়ে ফুলের চাহিদা সাধারণত অনেক বেড়ে যায়। সারা বছর এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন ফুলচাষিরা। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টির ফলে ফুলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাই এই মরসুমে লাভের আশায় থাকা চাষিরা এখন ভাবছেন, খরচের টাকাটুকুও আদায় করতে পারবেন কিনা।
কয়েকদিন আগেও প্রবল রোদ আর গরমে যখন সবাই কষ্ট পাচ্ছিল, তখন ফুলচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু হঠাৎ নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া তাঁদের সমস্ত আশা নষ্ট করে দিয়েছে।
ফুলচাষিরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের সময় ফুলের বাজার বেশ ভাল ছিল। তখন এক-কুড়ি গাঁদা ফুলের মালা ৭০০-৮০০ টাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন বৃষ্টির কারণে বাজারে ফুলের দাম মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছে, গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩-৪ টাকা দরে।
পোলেরহাট গ্রামের ফুলচাষি কিসমত মোল্লা জানালেন, “মালার জন্য সুচ-সুতো কেনার পাশাপাশি, এক একটি মালা গাঁথতে ১ টাকা মজুরি দিতে হয়। কিন্তু এত কম দামে যদি ফুল বিক্রি হয়, তাহলে খরচের টাকাটুকুও উঠবে না।”
ভাঙড়ের চিলেতলা গ্রামের চাষি শ্রীদাম মণ্ডল বলেন, “যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে ফুলের পাপড়িতে দাগ পড়বে এবং ফুলের পচনও শুরু হবে। এক বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছিলাম, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সমস্ত আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে। খরচ উঠবে কিনা, জানি না!”
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উদ্যানপালন দফতর জানিয়েছে, প্রায় দু’হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়, এর মধ্যে ৭০০-৮০০ হেক্টর জমিতে গাঁদা চাষ হয়। ভাঙড়ের বিভিন্ন এলাকা, যেমন পোলেরহাট, শানপুকুর, চিলেতলা ইত্যাদিতে ফুলচাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। ফড়েদের মাধ্যমে এই সব এলাকা থেকে ফুল কলকাতার মল্লিকঘাট ও শিয়ালদহ-সহ বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যায়।
চাষিরা আরও জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির কারণে এবং ঝোড়ো হাওয়ায় গাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। অনেক খেতে জল জমে ফুল গাছের ক্ষতি হয়েছে এবং ফুলে পচন ধরেছে। জেলার হর্টিকালচার দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর কৌশিক চক্রবর্তী বলেছেন, “মাঠে যেসব গাছে ফুল ফুটেছে, সেই সব ফুলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চাষিদের দ্রুত কুঁড়ি তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং মাঠে জল জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”






