পূজা আসতে আর

Days
Hours
Minutes
Seconds

বাকি।

ট্রাম্পের মুখে ‘হিরো’ ফ্লাইদুবাই পাইলট, মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারানো বিমান সামলালেন প্লাম্বার

ট্রাম্পের মুখে ‘হিরো’ ফ্লাইদুবাই পাইলট, মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারানো বিমান সামলালেন প্লাম্বার

মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আবিবগামী একটি বিমানে। সহ-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত হয়েও বিমানের ককপিটের দরজা খুলে যাত্রী ও ক্রুদের সাহায্যের সুযোগ করে দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবারের ওই ফ্লাইটে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে যাত্রী, ক্রু এবং বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটদের তৎপরতায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেই সূত্রে তিনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন এবং সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে ট্রাম্প একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, প্লাম্বার যাত্রীর ভূমিকা নিয়ে তিনি যে বিবরণ দিয়েছেন, তা অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা। অর্থাৎ ওই অংশের সব খুঁটিনাটি তিনি স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি।


ককপিটে হামলার পরও সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেন ভারতীয় পাইলট

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-এ কীভাবে পরিস্থিতি এত দ্রুত সংকটজনক হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ করার পর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। আহত অবস্থাতেও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন, যার ফলে যাত্রী ও অন্য ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পান।
এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইসরায়েলি যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন এবং দন্তচিকিৎসক শোটা মুসায়েভ। অন্যদিকে বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটরা পরে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণের দিকে নিয়ে যান।
ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি এর আগে স্পাইসজেটে কাজ করেছিলেন এবং ২০২২ সাল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাঝআকাশের সংকটে সাহসী ভূমিকার জন্য প্রশংসিত ভারতীয় ফ্লাইদুবাই পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।

প্লাম্বার যাত্রী কীভাবে বিমান সামলাতে সাহায্য করলেন?

ট্রাম্পের বক্তব্যে ঘটনার আরেকটি চমকপ্রদ দিক সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, বিমানের এক ইসরায়েলি যাত্রী, পেশায় প্লাম্বার ইয়ানিভ হায়ুন, ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। তাঁর আগে কোনো বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না বলে ট্রাম্প জানান।
হায়ুন পরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, তিনি টেলিভিশনের ‘Air Crash Investigation’ অনুষ্ঠান দেখতেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সাধারণ ধারণা কাজে লাগিয়ে তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য। তবে বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনেন প্রশিক্ষিত পাইলটরাই।
ঘটনার পর হায়ুনসহ কয়েকজন যাত্রীর ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে। একইসঙ্গে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, অতিরিক্ত পাইলটদের উপস্থিতি এবং ক্রুদের সমন্বিত পদক্ষেপও বড় দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফ্লাইদুবাই বিমানের সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা ইসরায়েলি যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন।

সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ, তদন্ত অব্যাহত


ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই বিমানটি সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। আহত পাইলট ও সহ-পাইলটকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। যাত্রীদের পরে বিকল্প বিমানে তেল আবিবে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা হিসেবে দেখছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।


ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, আকাশপথে কয়েক মুহূর্তের সংকট কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের দ্রুত পদক্ষেপ, যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা এবং অতিরিক্ত পাইলটদের পেশাদার হস্তক্ষেপ মিলেই শেষ পর্যন্ত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও আলোচনায় এলেও, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব বিবরণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

Afrin Sultana
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!