ভারতীয় ক্রিকেটে বুধবার রাতটা হয়ে থাকল শুবমন গিলের নামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুরন্ত ব্যাটিং করে গিল গড়লেন নতুন ইতিহাস। তাঁর অপরাজিত ২২৩ রানের ইনিংস শুধু ভারতকে জয় এনে দেয়নি, তৈরি করেছে পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড।
গুয়াহাটিতে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৪০৫ রান। তিন ব্যাটার—জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু—শতরান করেন। ফলে ভারতের সামনে ছিল ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য।
কিন্তু সেই চাপকে কার্যত উড়িয়ে দেন গিল। মাত্র ১৩৩ বলে ২২৩ রানে অপরাজিত থেকে তিনি ভারতকে আট উইকেটের জয় এনে দেন। ৩৯ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত।
গিলের ব্যাটে বিশ্বরেকর্ডের ঝড়

গিলের ডাবল সেঞ্চুরি আসে মাত্র ১১৭ বলে, যা পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। এর আগে ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদে নিজের প্রথম ODI দ্বিশতরান করেছিলেন তিনি।
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ভারতের অধিনায়ক। রোহিত শর্মার সঙ্গে তাঁর ২৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি রান তাড়াকে সহজ করে দেয়। রোহিতও ৭২ বলে শতরান করেন এবং ওয়ানডেতে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
৪০৬ রান তাড়া করে ভারতের দাপট

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫/৭ রান ছিল তাদের প্রথম ৪০০-র বেশি ODI স্কোর। জন ক্যাম্পবেল ১০১, শাই হোপ ১০০ এবং আমির জাঙ্গু ১১৪ রান করেন। শেষ ১০ ওভারে আসে ৭৬ রান।
তবু ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সামনে সেই বিশাল স্কোরও যথেষ্ট হয়নি। বিরাট কোহলি ১৯ বলে ২৯ এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ৩১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত গিলের অপরাজিত ইনিংসেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়।
রেকর্ডের সঙ্গে সিরিজে ভারতের এগিয়ে যাওয়া
গিলের এই ইনিংস ভারতের ODI ক্রিকেটে রান তাড়া করার শক্তির আরও একটি উদাহরণ হয়ে থাকল। একদিকে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ড, অন্যদিকে দলকে দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া—দুই দিক থেকেই ম্যাচটি বিশেষ।
তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াল। ওয়ানডে ক্রিকেটে শুবমন গিলের এই ২২৩ রানের ইনিংস নিঃসন্দেহে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে থাকল।
উৎস-ভিত্তিক তথ্য: Reuters-এর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩ করেন এবং ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।








