🌿 ভূত চতুর্দশী ও ১৪ শাকের তাৎপর্য
কালীপুজোর আগের দিন, অর্থাৎ অমাবস্যার আগে চতুর্দশী তিথি, বাংলায় পরিচিত ভূত চতুর্দশী নামে। এই দিনে ঘরে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি, ১৪ রকম শাক খাওয়ারও একটি বিশেষ রীতি রয়েছে।
ধারণা করা হয়, এই দিনে যমরাজের দূত অর্থাৎ ভূত-প্রেতদের প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১৪ শাক খাওয়া শুভ। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৪টি শাক খেলে শরীর শুদ্ধ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, এবং অশুভ শক্তি দূরে থাকে।
এছাড়াও, এটি শীতের শুরু — তাই নানা রকম সবুজ শাক শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। তাই এই রীতির পিছনে শুধু ধর্মীয় নয়, স্বাস্থ্যগত যুক্তিও রয়েছে।
🪔 ১৪ শাকের তালিকা (প্রচলিত)
গ্রামের পর গ্রামে ও অঞ্চলের উপর নির্ভর করে শাকের তালিকা কিছুটা বদল হতে পারে। তবে প্রচলিত ১৪ শাকের মধ্যে থাকে—
- পলতা শাক
- কলমি শাক
- লাউ শাক
- মেথি শাক
- নটে শাক
- পালং শাক
- পুঁই শাক
- শুষনি শাক
- হিঙ্গে শাক
- গিমা শাক
- সর্ষে শাক
- মূলো শাক
- বনলতা শাক
- চিচিঙ্গা শাক বা ধনে শাক
ঐতিহ্যবাহী “১৪ শাক” রেসিপি
উপকরণ:
- উপরোক্ত ১৪ রকম শাক (প্রতিটি সামান্য করে)
- সর্ষের তেল – ২ টেবিল চামচ
- শুকনো লঙ্কা – ২টি
- পঞ্চফোড়ন – ½ চা চামচ
- নুন – স্বাদমতো
- হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
প্রণালী:
- সব শাক ভালোভাবে ধুয়ে নিন ও ছোট ছোট করে কেটে নিন।
- একটি কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তাতে শুকনো লঙ্কা ও পঞ্চফোড়ন ফোড়ন দিন।
- এরপর সব শাক একসাথে দিয়ে নুন ও হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।
- আঁচ কমিয়ে ঢেকে দিন যাতে শাকের জল বেরিয়ে আসে।
- জল শুকিয়ে গেলে নেড়ে ভালোভাবে ভাজুন।
- ইচ্ছা করলে সামান্য কাঁচা লঙ্কা কুচি ও বেগুন ভাজা কুচি মিশিয়ে নিতে পারেন।
পরিবেশন:
গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন এই স্বাস্থ্যকর ও ঐতিহ্যবাহী ১৪ শাক।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রতীকী তাৎপর্য
১৪ শাকের ১৪ প্রকার দেবশক্তির প্রতীক। এই দিনে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয় এবং বাড়ি-ঘর আলোয় ভরে তোলা হয় ১৪ প্রদীপে। একদিকে খাদ্য, অন্যদিকে আলোক— দু’দিক থেকেই ভূত চতুর্দশী মানে অন্ধকার দূর করে শুভ শক্তিকে আহ্বান করা।
শেষকথা
ভূত চতুর্দশীর ১৪ শাক কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও শুভ শক্তির আহ্বান। এই শাক খাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করি এবং কালীপুজোর আগের দিনে নিজেদের শুদ্ধ করি।





