ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার: UNESCO-র নামে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগ, ৫০–৬০ কোটির হিসাব নিয়ে তদন্ত

UNESCO-র নাম ব্যবহার করে

রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার CGO কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ, এমনটাই জানানো হয়েছে।
এই গ্রেফতারির কেন্দ্রে রয়েছে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির বিতর্ক। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছিল।
গত এক মাসে তদন্তের গতি দ্রুত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে কসবায় তাঁর বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি হয়, পরে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ চলে। ১৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে।
তাই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কী কী অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী? আর টাকার গতিপথই বা কী?


UNESCO-র নাম অপব্যবহারের অভিযোগ

তদন্তকারীদের দাবি, “মাসআর্ট” নামের একটি সংস্থার আড়ালে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন নিজেদের UNESCO-র আনুষ্ঠানিক অংশীদার বা স্পনসরড বলে প্রচার করেছিলেন। অথচ UNESCO-র সঙ্গে তাঁদের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল না বলে অভিযোগ।
বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা হয়েছে।


হাজার হাজার ডোনার পাস, কোটি কোটি টাকার হিসাব


অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩-এ প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪-এ প্রায় ৬১ হাজার পাস বিক্রি হয়েছিল। তিন বছরে সংখ্যাটা বেড়েছে প্রায় তিন গুণেরও বেশি।
তদন্তকারীদের দাবি, এই পাস বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তোলা হয়, যার একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার হয়েছে বলে সন্দেহ। এখন সেই অর্থের উৎস ও গন্তব্য, অর্থাৎ মানি ট্রেল খুঁজে বের করাই তদন্তের মূল লক্ষ্য।


আদালত থেকে গ্রেফতারি: কীভাবে এগোল তদন্ত?

আগাম জামিনের শুনানিতে আদালত লক্ষ্য করে, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং কিছু সংস্থার মধ্যে যোগসূত্র দেখাতে পেরেছে রাজ্য। সেই রায়ের পর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা আর ছিল না।
এবার দেখার, পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয় কি না এবং আদালতে সেন পক্ষের আইনজীবীরা কী যুক্তি দেন। ইন্দ্রনীল সেন বা তাঁর দলের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।


পুজো, সংস্কৃতি আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নামে ওঠা এই অভিযোগ রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে এগুলো এখনও অভিযোগ মাত্র, দোষী না নির্দোষ তা স্থির করবে আদালত।
জিজ্ঞাসাবাদে কোন নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!