কুম্ভের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা গঙ্গাসাগর এবার নতুন চেহারায় ধরা দিতে চলেছে। খবর অনুযায়ী, মেলাপ্রাঙ্গণের আয়তন বাড়ছে প্রায় ৬ লক্ষ বর্গফুট। সঙ্গে জোরালো হচ্ছে জাতীয় মেলার স্বীকৃতির প্রসঙ্গও।
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে বঙ্গোপসাগর ও গঙ্গার মোহনায় পুণ্যস্নানে আসেন লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী। গত কয়েক বছরে সংখ্যাটা প্রায় এক কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভিড়ের এই চাপ সামলাতে বাড়তি জায়গা তাই সময়ের দাবি।
এই বিস্তারের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে আছে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মীয়মাণ গঙ্গাসাগর সেতু। বছরের পর বছর যে নদী সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছে, সেই বাধা ঘোচার পথে রাজ্য অনেকটাই এগিয়েছে বলে দাবি।
প্রশ্ন একটাই: মেলার পরিকাঠামো আর যোগাযোগ, দুটোই কি একসঙ্গে বদলে দিতে পারবে সাগরের ছবি?
বড় হচ্ছে মেলাপ্রাঙ্গণ: ভিড় সামলানোর নতুন পরিকল্পনা
৬ লক্ষ বর্গফুট বাড়তি জায়গার অর্থ শুধু বিস্তৃত চত্বর নয়। এতে তীর্থযাত্রীদের থাকার ছাউনি, স্বাস্থ্য শিবির, দমকল কেন্দ্র, নিরাপত্তা চৌকি ও প্রবেশ-প্রস্থানের পথ আরও গুছিয়ে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়।
গত মেলায় অস্থায়ী হাসপাতাল, এয়ার ও ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স, বিমা এবং কুয়াশা মোকাবিলায় ফগ লাইটের মতো ব্যবস্থা ছিল। বাড়তি জায়গায় এসব আয়োজন আরও সুসংহত করা যাবে, আর হুড়োহুড়ির ঝুঁকিও কমবে।
জাতীয় মেলার স্বীকৃতি: কেন উঠছে দাবি?
গঙ্গাসাগর এমন এক তীর্থ, যেখানে পৌঁছতে নদী পেরোতেই হয়। সারা দেশের মধ্যে এমন পুণ্যক্ষেত্র বিরল। দাবিদারদের যুক্তি, এই অনন্য ঐতিহ্য, বিপুল জনসমাগম এবং বিশাল প্রশাসনিক আয়োজন জাতীয় স্বীকৃতির দাবি রাখে।
জাতীয় মেলার মর্যাদা মিললে প্রচার, পর্যটন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি মনোযোগ আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও তার শর্তাবলি সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখেই নিশ্চিত হওয়া উচিত।
মুড়িগঙ্গা সেতু: স্বপ্নপূরণের পথে
২০২৬-এর জানুয়ারিতে শিলান্যাস হয় চার লেনের গঙ্গাসাগর সেতুর। কাকদ্বীপ ও কচুবেড়িয়াকে জুড়বে এই সেতু। নির্মাণ হচ্ছে এক্সট্রাডোজড কেবল-স্টেড কাঠামোয়, আনুমানিক ব্যয় ১,৫০০ থেকে ১,৬৭০ কোটি টাকার মধ্যে।
এখন ভরসা ভেসেলে। কুয়াশা বা জোয়ার-ভাটায় পরিষেবা ব্যাহত হলে আটকে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। সেতু চালু হলে তীর্থযাত্রী ও দ্বীপবাসী, দুই পক্ষেরই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
মেলার আয়তন বৃদ্ধি, জাতীয় স্বীকৃতির আলোচনা এবং স্থায়ী সেতু, তিনটি উদ্যোগ একসঙ্গে এগোলে গঙ্গাসাগরের চেহারা বদলে যেতে পারে। তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা ও সুবিধা তখন আরও নিশ্চিত হবে, সঙ্গে খুলবে পর্যটনের নতুন দরজা।
এখন নজর থাকবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আর সেতুর কাজের সময়সীমার দিকে। কথা রাখা গেলে আগামী মকর সংক্রান্তি হতে পারে সাগরদ্বীপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়।






