ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কি সত্যিই ভারী বৃষ্টি আসছে?

মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রে নির্দেশ স্পষ্ট। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নামা চলবে না। যাঁরা সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত তীরে ফেরার পরামর্শ। শহরবাসীর জন্য কয়েকটি সহজ সতর্কতা: নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা থাকলে আগাম প্রস্তুতি নিন। দুর্বল গাছ, বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকুন। মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ রাখুন। বৃষ্টির দিনে দূরের যাত্রা ও কেনাকাটা এড়ানো গেলে ভালো। উৎসবের মরসুমে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার আয়োজকেরা বাড়তি সতর্ক থাকুন। উপসংহার আপাতত ঝড়ের মূল ধাক্কা অন্ধ্র–ওড়িশা উপকূলে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবু কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ আর দমকা হাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। অকারণ আতঙ্কের দরকার নেই, আবার অবহেলাও চলবে না। সরকারি পূর্বাভাসে নজর রাখুন, পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন, নিরাপদ থাকুন।

সোমবার সকালে কলকাতায় ছিল হালকা কুয়াশা আর শীতের মৃদু ছোঁয়া। পারদ ২১–২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। দীপাবলির আগে এমন আবহাওয়া শহরবাসীর কাছে স্বস্তির। কিন্তু সেই স্বস্তি কি টিকবে?
বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ দিনে দিনে শক্তি বাড়াচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও আইএমডি-র মতে, এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই মাত্রায় পৌঁছলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’।
প্রশ্ন একটাই। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কি ভারী বৃষ্টি হবে? পূর্বাভাস বলছে, ২৮ অক্টোবর থেকে আবহাওয়ার মেজাজ বদলাতে পারে।
ঝড়ের গতিপথ, বৃষ্টির সম্ভাব্য এলাকা আর সাবধানতার খুঁটিনাটি, সবই রইল এই প্রতিবেদনে।


গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়: এখন পরিস্থিতি কী?

আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। ২৮ অক্টোবর সকালের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা। অর্থাৎ ঝড়ের গতিপথ আপাতত অন্ধ্র–দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলমুখী।
একটা বিষয় স্পষ্ট থাকা ভালো। নামকরণ নির্ভর করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রায় পৌঁছনোর ওপর। ব্যবস্থাটি শেষ পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপ হয়ে থাকলেও বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যায়।
সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০–৮০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে। তাই উপকূলের মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা আগেই জারি হয়েছে।


কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে কতটা বৃষ্টির আশঙ্কা?

আপাতত পূর্বাভাসে বাংলায় সরাসরি ঝড়ের আছড়ে পড়ার কথা নেই। তবু পরোক্ষ প্রভাবে ২৮ অক্টোবর থেকে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় ও পশ্চিমের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনায় বেশি হতে পারে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দফতর।
এর ফলে শীতের আমেজ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। উত্তুরে হাওয়া ঢোকার আগেই বৃষ্টি আর মেঘের দাপটে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়তেও পারে।
মনে রাখতে হবে, ঝড়ের গতিপথ বদলালে বৃষ্টির ছবিও বদলে যেতে পারে। তাই আইএমডি ও আলিপুর আবহাওয়া দফতরের নতুন বুলেটিনে নজর রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।


প্রস্তুতি ও সতর্কতা: শহরবাসী ও মৎস্যজীবীরা কী করবেন?

মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রে নির্দেশ স্পষ্ট। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নামা চলবে না। যাঁরা সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত তীরে ফেরার পরামর্শ।
শহরবাসীর জন্য কয়েকটি সহজ সতর্কতা:
নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা থাকলে আগাম প্রস্তুতি নিন।
দুর্বল গাছ, বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং ও ঝুলন্ত তার থেকে দূরে থাকুন।
মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক চার্জ রাখুন।
বৃষ্টির দিনে দূরের যাত্রা ও কেনাকাটা এড়ানো গেলে ভালো।
উৎসবের মরসুমে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার আয়োজকেরা বাড়তি সতর্ক থাকুন।


আপাতত ঝড়ের মূল ধাক্কা অন্ধ্র–ওড়িশা উপকূলে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবু কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ আর দমকা হাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।
অকারণ আতঙ্কের দরকার নেই, আবার অবহেলাও চলবে না। সরকারি পূর্বাভাসে নজর রাখুন, পরিকল্পনা সাজিয়ে নিন, নিরাপদ থাকুন।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
Email
Print
আরও পড়ুন
error: Content is protected !!