কলকাতা | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | Ekusheypa News Desk
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১৯ জন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু দর্শনার্থী। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় শোক ও আতঙ্কে। এই ঘটনায় গোটা শহরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে এই বিপর্যয় ঘটে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ মণ্ডপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভিড়ের চাপ আরও বেড়ে যায়। এর জেরেই হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে।


সংকীর্ণ প্রবেশ ও প্রস্থান পথ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলেও পর্যাপ্ত সাহায্য সময়মতো পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় কার, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
মৃত ১৯, আহতদের চিকিৎসা চলছে
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৯ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং আরও ২৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তদন্তের নির্দেশ, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
ঘটনার তদন্তে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিটিতে কলকাতা হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতিকে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুজো কমিটির একাধিক কর্তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার খবরও সামনে এসেছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, বড় উৎসবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুজো দেখতে গিয়ে যেন কাউকে প্রাণ হারাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের আরও সতর্ক হওয়া জরুরি।
Ekusheypa-র আবেদন: পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় দেখলে জোর করে প্রবেশ করবেন না। প্রবেশ ও প্রস্থানের নির্দেশ মেনে চলুন, শিশু ও প্রবীণদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। কয়েক মুহূর্তের আনন্দ যেন কোনও পরিবারের সারাজীবনের দুঃখের কারণ না হয়ে ওঠে।
(বিদ্র : হতাহতের সংখ্যা ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশাসনের পরবর্তী আপডেট অনুসরণ করুন।)






