ভারত-ব্রাজিল ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে উৎসবের শহর কলকাতা। শনিবার সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রস্তাবিত হাই-প্রোফাইল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশ্বফুটবলের অন্যতম বড় নাম ব্রাজিলের উপস্থিতিতে বিপুল দর্শকসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেডিয়াম চত্বরে প্রায় ২,০০০ পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য ৩০০-র বেশি CCTV ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে তিন দফা নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
শুধু স্টেডিয়ামের ভিতরেই নয়, প্রবেশপথ, দর্শক চলাচল, যানবাহন এবং ভিড়ের গতিবিধির উপরও নজর থাকবে। ডিজিটাল টিকিট যাচাই এবং আলাদা প্রবেশপথ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে বিপুল জনসমাগমকে সুশৃঙ্খল রাখা।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে তিন স্তরের নিরাপত্তা
নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল দর্শকদের তিন স্তরের তল্লাশি। ডিজিটাল টিকিট একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হবে। প্রবেশপথে ব্যারিকেড ও গার্ডরেল বসিয়ে দর্শকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামে আতশবাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, লেজার লাইট, ধারালো অস্ত্র, মদ, মাদক, খাবার, জলভর্তি বোতল, ব্যানার ও পোস্টারের মতো বেশ কিছু সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দর্শকদের সুবিধার জন্য গ্যালারির ভিতরে খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে।
ব্রাজিল দলকে ঘিরে কলকাতায় উন্মাদনা
ব্রাজিল দল ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছেছে এবং তাদের যাতায়াতেও কড়া নিরাপত্তা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত দলের গতিবিধিতে পুলিশের বিশেষ নজর ছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মারকুইনহোস, এন্ড্রিকদের মতো তারকাদের ঘিরে শহরের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও তুঙ্গে।
ব্রাজিলের কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তির উপস্থিতিও ম্যাচটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফলে ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়, কলকাতার ফুটবল সংস্কৃতির জন্যও বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বার্তা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শকদের ম্যাচ শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ভিড়ের চাপ কমানো সম্ভব হবে।
এমন বড় ম্যাচে দর্শকদের ধৈর্য ধরে তল্লাশি সম্পন্ন করা এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে না আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ম্যাচের আনন্দকে নির্বিঘ্ন রাখা এবং দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এখন ফুটবল উৎসবের আবহ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে নিরাপত্তার প্রস্তুতি। হাজার হাজার দর্শক, বিশ্বমানের তারকা এবং বিপুল মিডিয়া নজরের মধ্যে সল্টলেক স্টেডিয়ামে সুষ্ঠুভাবে ম্যাচ আয়োজন করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।







