দুর্গাপুজোর আয়োজকদের আরও বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করল দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি। কলকাতার পাশাপাশি জেলা, দেশের অন্য শহর এবং বিদেশের পুজো কমিটিগুলিকেও একটি সমন্বিত মঞ্চের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের ঘোষণায় অন্যতম গুরুত্ব পেয়েছে তথাকথিত ‘VIP সংস্কৃতি’ বন্ধ করার বিষয়টি। সমিতির সভাপতি তথা শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছেন, অর্থের বিনিময়ে VIP পাস বা বিশেষ কার্ড দেওয়ার প্রথা তাঁরা রাখতে চান না।
সমিতির বক্তব্য, বড় বাজেটের কয়েকটি পুজোকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রচারের ফলে ছোট ও মাঝারি পুজোগুলি অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে। নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই ব্যবধান কমিয়ে বিভিন্ন পুজো কমিটিকে একই ছাতার তলায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্রের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজ এবং একাধিক বিজেপি নেতা এর সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ সেখানে রয়েছেন।
ছোট-বড় সব পুজোর জন্য এক মঞ্চ

দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির দাবি, ইতিমধ্যেই ৭৫০-র বেশি পুজো আয়োজক এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কলকাতার বাইরেও দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও পুনের পুজো আয়োজকদের অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
এই উদ্যোগের মূল ভাবনা হল পুজোর জনপ্রিয়তা বা বাজেটের ভিত্তিতে আয়োজকদের মধ্যে বিভাজন না রেখে একটি বৃহত্তর সমন্বয় তৈরি করা। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্যে ছোট ও মাঝারি পুজোর গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
‘VIP সংস্কৃতি’ নিয়ে নতুন অবস্থান

নতুন সংগঠনের অন্যতম ঘোষিত নীতি হল অর্থের বিনিময়ে VIP পাস বা বিশেষ কার্ড বিতরণ না করা। রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর সঙ্গে মানুষের আবেগ ও ভক্তির সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।
এই অবস্থানকে সামনে রেখে সমিতি পুজোকে আরও সর্বজনীন করার কথা বলছে। একই সঙ্গে আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়, পুজোর পরিকাঠামো এবং স্থানীয় স্তরের উদ্যোগগুলিকে সামনে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
কলকাতা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশের পুজোও নজরে

নতুন সমিতির পরিসর শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি বিদেশের কিছু পুজোও এই সমন্বয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এর ফলে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের মধ্যে যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে নতুন সংগঠনটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং অন্যান্য পুজো সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয়, সেটিও নজরে থাকবে।
দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতির আত্মপ্রকাশে কলকাতার পুজো পরিসরে নতুন একটি সংগঠনিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ‘VIP সংস্কৃতি’ বন্ধ, ছোট ও মাঝারি পুজোর গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং দেশ-বিদেশের আয়োজকদের এক ছাতার তলায় আনার ঘোষিত লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোচ্ছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে এর রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা-ও আগামী দিনে এই উদ্যোগের পরিচিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।








