জম্মু-কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) সদস্য মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে শুরু হওয়া অভিযানের পর তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাডগামের গুরওয়েথ কালান এলাকায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ চিনার কোর অভিযানে নামে। পরে ইয়োসমার্গের কাছাকাছি এলাকায় অভিযান আরও বিস্তৃত হয়।
মুসাকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের বিদেশি জঙ্গি হিসেবে নজরে রেখেছিল। ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর লস্কর নেটওয়ার্কের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

নিরাপত্তা সূত্র অনুযায়ী, মুসার উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান শুরু করা হয়। সেনার ১৫ চিনার কোর, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনীর বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর নিরাপত্তারক্ষীরা চ্যালেঞ্জ জানালে গুলির লড়াই শুরু হয়। পরে তল্লাশির সময় মুসার দেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়।
পাহেলগাম হামলার সঙ্গে কীভাবে যোগসূত্র
মুসার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি লস্কর-ই-তৈবার সিনিয়র কমান্ডার সাজিদ জাটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তবে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে—মুসা সরাসরি পাহেলগাম হামলা চালানো দলের সদস্য ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
নিরাপত্তা অভিযানে নতুন অধ্যায়
মুসার নিহত হওয়ার ঘটনাকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জম্মু-কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখছে।
তদন্ত ও নিরাপত্তা সংস্থার পরবর্তী তথ্যেই তাঁর ভূমিকা, বিভিন্ন যোগাযোগ এবং অতীতের ঘটনাগুলির সঙ্গে তাঁর প্রকৃত যোগসূত্র সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে। বর্তমানে সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।








