ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের অবসান। অবশেষে স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মোট ১৪টি শর্তের ভিত্তিতে এই সমঝোতাপত্র (MoU) সই করেছে দুই দেশ। আর এই চুক্তি সম্পন্ন হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র নিশানা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তাঁর দাবি, শান্তিচুক্তি সই করার জন্য ট্রাম্প মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন এবং ইরানের ওপর সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
শুক্রবার চুক্তি পরবর্তী প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা খামেনেই বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমেরিকার দেওয়া শর্তে আমি রাজি হইনি। পরে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত বুঝে আমি সম্মতি দিই।” ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি কার্যকর করতে নিজের সমস্ত প্রভাব ও কৌশল খাটিয়েছেন।
খুলে যাচ্ছে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’, কী রয়েছে ১৪টি শর্তে?
প্যারিসে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের মাঝেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পাঠানো খসড়িতে সই করেছে ইরানও। এই চুক্তির মূল শর্তগুলি হলো:
- যুদ্ধবিরতি: ইরান, লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। নতুন করে কোনো যুদ্ধ হবে না, এই গ্যারান্টি দেবে ইসরায়েল ও আমেরিকা।
- হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত: দীর্ঘ সংঘাতের জেরে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেবে আমেরিকা। ইরানও জলপথটি খুলে দেবে, যার ফলে বিশ্ববাজারে কাটবে জ্বালানি সংকট।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরবে। পাশাপাশি জব্দ থাকা ২৪ মিলিয়ন ডলার ইরানকে ফেরত দেবে ওয়াশিংটন।
- সেনা প্রত্যাহার: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
- পরমাণু নিয়ন্ত্রণ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে দু-পক্ষের আলোচনা জারি থাকবে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ১৯ জুন জেনেভায় এই সই-পর্ব হওয়ার কথা থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে আগেই চুক্তি কার্যকর হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল হতে পারে। তবে এই চুক্তির ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড়সড় স্বস্তি ফিরতে চলেছে।






