কলকাতার বাগবাজারে অবস্থিত উদ্বোধন ভবন রামকৃষ্ণ-সারদা-বিবেকানন্দ ভাবধারার ইতিহাসে এক পবিত্র তীর্থস্থান। আজকের দিনেই, ১৯০৯ সালের ২৩ মে (বাংলা ১৩১৬ সালের ৯ জ্যৈষ্ঠ), শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী প্রথমবারের মতো এই ভবনে শুভ পদার্পণ করেছিলেন।

স্বামী সারদানন্দজী মহারাজ, যিনি ছিলেন ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণের অন্যতম সন্ন্যাসী শিষ্য, কেদারবাবুর দান করা জমিতে এই দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। অর্থাভাবের কারণে তাঁকে বহু নিকট ভক্তের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। অবশেষে ১৯০৮ সালে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়।

ভবনের নিচতলার ছয়টি কক্ষ ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার কার্যালয়ের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। উপরের তলায় কয়েকটি ঘর শ্রীশ্রীমার বাসের জন্য সাজানো হয়। পরবর্তীকালে এই বাড়িই ভক্তসমাজের কাছে ‘মায়ের বাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

১৯০৯ সালের ২৩ মে, রবিবার সকালে শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী রাধু ও মাকুকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধন ভবনে আসেন। সেই সময় বাড়ির সামনে ছিল বিশাল খোলা মাঠ। ছাদ থেকে গঙ্গার মনোরম দৃশ্য দেখা যেত এবং বিশেষ একটি স্থান থেকে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের চূড়াও চোখে পড়ত।

নতুন বাড়ি দেখে শ্রীশ্রীমা অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং স্বামী সারদানন্দজীকে আন্তরিক আশীর্বাদ করেন। স্বামী সারদানন্দও গভীর তৃপ্তি অনুভব করেছিলেন, কারণ তিনি স্বামী বিবেকানন্দের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে শ্রীশ্রীমার জন্য একটি স্থায়ী আবাস গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
এরপর থেকে তিনি নিজেকে শ্রীশ্রীমার ‘দ্বাররক্ষক’ বলে মনে করতেন এবং মায়ের সেবাকে জীবনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এই ঘটনার মাধ্যমে উদ্বোধন ভবন শুধু একটি বাড়ি নয়, রামকৃষ্ণ আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য সাধনা ও সেবার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
আজও বাগবাজারের ‘মায়ের বাড়ি’ অসংখ্য ভক্তের কাছে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।
🌹 আজ শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীর বাগবাজার উদ্বোধন ভবনে শুভ পদার্পণের পুণ্যতিথি। ভক্ত সমাজের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি। 🌹






