স্পোর্টস ডেস্ক, নিউ জার্সি: শুরু হয়ে গেল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। আর প্রথম ম্যাচেই নিজের জাত চেনালেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ম্যাচের প্রথমার্ধে আফ্রিকান দলটির লড়াকু ফুটবলের সামনে ফরাসি ব্রিগেড কিছুটা ধুঁকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় ‘এমবাপে শো’। জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি এক রাতে একাধিক অনন্য কীর্তি গড়লেন এই ফরাসি পোস্টার বয়।

প্রথমার্ধে লড়াই, দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপে ম্যাজিক
ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে কড়া টক্কর দিচ্ছিল সেনেগালের রক্ষণভাগ। তবে বিরতির পর খোলস ছেড়ে বের হন এমবাপে। নিখুঁত ফুটবলীয় দক্ষতায় সেনেগালের ডিফেন্স ভেঙে পরপর দুটি দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় গোলটি আসে তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। সেনেগাল গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্দির মাথার ওপর দিয়ে চতুরতার সঙ্গে বল জালে ভাসিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ের জোরালো শটে সেনেগাল এক গোল শোধ করলেও তা শুধু ব্যবধানই কমিয়েছে, ফ্রান্সের জয় আটকাতে পারেনি।

ভাঙল মেসির রেকর্ড, ছুঁলেন গার্ড মুলারকে
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের কিংবদন্তিদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। এই ম্যাচের জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪। এর ফলে তিনি টপকে গেলেন লিওনেল মেসির ১৩ গোলের রেকর্ডকে। একই সঙ্গে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন তিনি। বিশ্বরেকর্ডধারী মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) থেকে এখন মাত্র ২ গোল দূরে দাঁড়িয়ে এমবাপে।
জিরুকে টপকে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা
জাতীয় দলের হয়েও এদিন ইতিহাস লিখেছেন এমবাপে। ফ্রান্সের জার্সিতে এত দিন সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন অলিভিয়ার জিরু (৫৭ গোল)। সেনেগালের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর মাত্র ৯৮ ম্যাচে এমবাপের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫৮। জিরুকে টপকে এখন তিনিই ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।

একই রাতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সেও অপ্রতিরোধ্য লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ থাকছে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার। বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসি বনাম এমবাপের এই দ্বৈরথ ফুটবল মহলে পারদ চড়াতে শুরু করেছে।






