নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বাংলায় ভোট-রাজনীতির লড়াই এবার সল্টলেকের অন্দরে পাতের লড়াইয়ে রূপ নিল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে এগোতেই অভিনব উদযাপনে মাতল গেরুয়া শিবির। সোমবার সল্টলেকের রাজ্য দফতরে বিজেপির বিজয় উৎসবের মেনু কার্ডে ঠাঁই পেল খাঁটি বাঙালি খাবার— দই-কাতলা আর মাছের মাথা দিয়ে মুসুর ডাল।
নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মানুষের মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওড়িশা বা উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছিলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে খাদ্যাভ্যাসে কোপ পড়ে। আজ সেই প্রচারেরই ‘ভোজন-জবাব’ দিল বিজেপি। সল্টলেকের দফতরে কর্মীদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই চলছে ভুরিভোজ।
বিজয়ের থালিতে কী কী থাকছে? বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সূত্রে খবর, আজকের বিশেষ মেনুতে রয়েছে:
- গরম ভাত ও মুসুর ডাল (মাছের মাথা দিয়ে)
- দই-কাতলা
- মিক্সড সবজি
- চাটনি ও পাঁপড়
বিজেপির এক কর্মীর কথায়, “আমরা প্রমাণ করে দিলাম বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি আর খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য আমাদের কোনোদিনই ছিল না। তৃণমূল মিথ্যা ভয় দেখিয়েছিল, আজ মাছ-ভাত খেয়েই আমরা সেই অপপ্রচারের জবাব দিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, ভোটের প্রচারে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মাছ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মাছের বিপুল চাহিদা থাকলেও রাজ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে খাদ্যাভ্যাসে কোনো বিধিনিষেধ নেই। আজ সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে সেই বার্তারই প্রতিফলন দেখা গেল।






