কলকাতা: রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরে বড় প্রশাসনিক রদবদল। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামীকাল বর্তমান ডিজি রাজীব কুমার অবসর নেওয়ার পর রাজ্য পুলিশের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিজি (Acting DGP) হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন পীযূষ পান্ডে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাব সইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে পীযূষ পান্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিফ সিকিউরিটি অফিসার তথা রাজ্যের ডিরেক্টর (সিকিউরিটি) পদে কর্মরত। ভিভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ দায়িত্বে আনা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
স্থায়ী ডিজি নিয়োগে আইনি জট, আপাতত ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাই ভরসা
উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের স্থায়ী ডিজি নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে আইনি জটে আটকে। ইউপিএসসি-র মাধ্যমে প্যানেল গঠন, নাম নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত ভারপ্রাপ্ত ডিজি হিসেবেই দায়িত্ব সামলাতে হবে পীযূষ পান্ডেকে।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে সুপ্রতিম সরকার

একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ পদেও বদল। বর্তমান কমিশনার মনোজ বর্মা-কে রাজ্যের ডিরেক্টর (সিকিউরিটি) পদে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ভিভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্ব এবার সামলাবেন মনোজ বর্মা।
তাঁর জায়গায় কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হচ্ছেন সুপ্রতিম সরকার। বর্তমানে তিনি এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদে কর্মরত। কলকাতা পুলিশে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অতীতে তিনি ডিসি সাউথ, জয়েন্ট সিপি ট্রাফিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলার এসপি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা নেবে।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ বদল
রাজ্য পুলিশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হয়েছে—
- এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা): বিনীত গোয়েল
- এডিজি (এসটিএফ): জাভেদ শামিম


প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে এসটিএফ-কে নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সন্ত্রাস দমন, সংগঠিত অপরাধ ও স্পেশাল অপারেশন জোরদার করতেই এই বদল বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
কেন এই রদবদল গুরুত্বপূর্ণ?
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভিভিআইপি নিরাপত্তা এবং বড় শহর কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই শীর্ষস্তরের রদবদল। অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে নবান্ন সূত্রের দাবি।





