ইসলামাবাদ: দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনাও শেষ পর্যন্ত নিষ্ফল। ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি বৈঠকে অধরাই রয়ে গেল সমাধান। আমেরিকার দেওয়া কঠিন শর্তাবলী মানতে অস্বীকার করল ইরান। রবিবার সকালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার পরেই ফের এক দফার যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে।
শান্তি বৈঠক কেন ব্যর্থ হলো?
মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামাবাদে উপস্থিত জেডি ভ্যান্স সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, তাঁরা ইরানের জন্য বেশ কিছু নমনীয় প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার প্রধান দাবি ছিল— পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ। ইরান বর্তমানে বা অদূর ভবিষ্যতে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, এমন নিশ্চয়তা চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু তেহরান সেই প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ।
জেডি ভ্যান্সের কথায়:
“আমরা আমাদের সীমা এবং শর্ত স্পষ্ট জানিয়েছিলাম। আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি। এই সমঝোতা না হওয়াটা আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর।”
পাকিস্তানের ভূমিকা এবং ট্রাম্পের নজর
বৈঠক ব্যর্থ হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন। ভ্যান্স জানান, শান্তি ফেরাতে পাকিস্তান আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ আলোচনার সময় প্রতি মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। আমেরিকার দাবি, তারা সেরা প্রস্তাবটিই দিয়েছিল, কিন্তু পরমাণু প্রকল্পের প্রশ্নে ইরান অনড় থাকায় ভেস্তে যায় সব পরিকল্পনা।
ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি ইতিপূর্বেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও তারা নতুন করে পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান হতে চায় কি না— তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দানা বাঁধছে। এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক কোন পথে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।






