স্নেহা রায়, ২ সেপ্টেম্বরঃ হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন তিথিতে মা কালীর (Goddess Kali) বিভিন্ন রূপের পুজো করা হয়। দেবীর আরাধনা সর্বজনবিদিত। আজ কৌশিকী অমাবস্যা। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যা পালিত হয় কৌশিকী অমাবস্যা হিসেবে। কথিত আছে, আজকের দিনেই জন্ম হয়ে ছিল দেবীর নব রূপের এক রূপ দেবী কৌশিকীর। তাই এই দিন পালিত হয় কৌশিকী অমাবস্যা রূপে।

আজকের দিনে দেবী কালী পূজিত হন বিশেষ সমারোহের সঙ্গে।মনে করা হয় মহাশ্মশানে দেবী তারার আবাস! তারাপীঠের মহাশ্মশানে জ্যোতি রূপে বাস করেন দেবী।মা তারা হলেন দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা। কৌশিকী তারই আরেক রূপ। মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে, এক সময় মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ট ছিলেন। তখনই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন৷ কিন্তু এই শান্তি বেশিদিন থাকে না। শুম্ভ- নিশুম্ভের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। এরপর সকলে পার্বতীর স্মরণাপন্ন হলে, দেবতাদের রক্ষা করতে মা মহামায়া তাঁর ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত করে, এক দেবীমূর্তির জন্ম দেন৷

কালীর কথা উঠলেই প্রথম আমাদের মাথায় আসে সতী পীঠের এক পীঠ তারাপীঠের কথা। তারাপীঠে এই দিন পালিত হয় বিশেষ ধুমধামের সঙ্গে। কথিত আছে, এই দিনেই নাকি তারাপীঠ শ্মশান চত্বরে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। তাই এই অমাবস্যায় মা পূজিত হন বিশেষ রূপে। তবে শুধু মন্দির নয়, মায়ায় মেতে ওঠে শ্মশান চত্বরও। এছাড়াও শ্মশান সংলগ্ন দ্বারকা নদীর জল! এই নদী উত্তরবাহিনী! একমাত্র দেখা যায় কাশীতে গঙ্গা উত্তরবাহিনী আর তারপরে বীরভূমের দ্বারকা। অনেকেরই মতে অমাবস্যার এই তিথিতে তারাপীঠ মহাশ্মশানে মহাযজ্ঞ করলে অসাধ্য সাধন লাভ হয়, পূরণ হয় সকলের মনস্কামনা। অশুভ শক্তিকে তন্ত্র সাধনার দ্বারা দমন করা যায় আমাবস্যার এই পবিত্র লগ্নে।

কথিত আছে সাধক বামাক্ষ্যাপা, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ধ্যানমগ্ন বামাক্ষ্য়াপা এদিন তারা মায়ের আবির্ভাব পান। এছাড়াও শোনা যায়, এই তিথিতে কৌশিকী রূপে মা তারা বিশেষ সন্ধিক্ষণে, শুম্ভ- নিশুম্ভ নামক অসুরদের দমন করেছিলেন। সেই নাম থেকেই ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামটি এসেছে।

কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ শ্মশানে চলে তন্ত্রমন্ত্রের বিশেষ যোগ্য। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। তন্ত্র মতে, এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়। এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধিলাভ করেন। এইদিনে মুম্বাই ,দিল্লি,রাশিয়া,থাইল্যান্ড থেকে সাধু সন্ন্যাসীরা এসে উপস্থিত হন। বিশ্বাস অনুযায়ী, কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ পুজোয় অংশগ্রহণ করে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে জীবনের সব পাপ থেকে মুক্তি মেলে। এদিন সঠিক উপায়ে তন্ত্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে, জীবনের সমস্ত বাঁধা বিপত্তি কেটে যায়, সহজে।






