জুনিয়র চিকিৎসকদের অবস্থান: দাবি না মানা হলে চলবে আন্দোলন

বিকেল ৫টার পরও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেনি জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাঁরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থিতি বজায় রেখেছে। দাবি পূরণ না হলে অবিরত এই অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ইতিমধ্যে, স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য ভবনের সূত্র মারফত জানা গেছে, চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল ভিতরে আসার চেষ্টা করলে তাদের স্বাগতম জানানো হবে। তবে জুনিয়র ডাক্তারদের বক্তব্য, তারা ডেপুটেশন দিতে আসেননি। তাঁদের দাবিগুলি স্পষ্ট;
‘ন্যায় চাই’ স্লোগান ধ্বনিত, অব্যাহত কর্মবিরতি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪: সারা রাত চলেছে প্রতিবাদ-আন্দোলনের ঢেউ। পরের দিন ভোরে, ক্লান্তির লেশমাত্র না রেখে নতুন উদ্যমে আন্দোলন শুরু হলো।
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের আন্দোলন মঞ্চে প্রজেক্টর ও পর্দার আয়োজন ছিল। এক তরুণী চিকিৎসক-ছাত্রীর প্রতীকী ছবিতে মালা দিয়ে বেদীটি সাজানো হয়েছিল, এবং মোমবাতি প্রজ্বলিত করে শ্রদ্ধা নিবেদন চলছিল। আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের মাঝে একটা ‘বিশ্বাস’-এর ছাপ স্পষ্ট ছিল। তবে, সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তাদের মনোবলে চিড় ধরালো, যা তারা এক মাস ধরে লালন করছিল।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না।
আজ (শনিবার) থেকে চার ঘণ্টার টেলিমেডিসিন পরিষেবা দেবেন জুনিয়র ডাক্তাররা, ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
৩১ আগস্ট ২০২৪, কলকাতাঃ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পর ২১ দিন অতিক্রান্ত। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে কর্মবিরতি চলছে। এরই মধ্যে, তারা শনিবার অর্থাৎ ৩১ অগস্ট থেকে ‘টেলিমেডিসিন’ পরিষেবা শুরু করার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার রাতে এই ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডাক্টরস ফ্রন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টো পর্যন্ত এই পরিষেবা উপলব্ধ থাকবে।
টেলিমেডিসিন পরিষেবার তথ্য
এই পরিষেবার জন্য কয়েকটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে:
৮৭৭৭৫৬৫২৫১
৮৭৭৭৫৬৯৩৯৯
৮৭৭৭৫৭৯৫১৭
৬২৯০৩২৬০৭৯
এই নম্বরগুলিতে হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা পাওয়া যাবে। এছাড়াও, ‘পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডাক্টরস ফ্রন্ট’ আগামী ৪ সেপ্টেম্বর আরজি কর-কাণ্ডের বিচারের দাবিতে
AIIMS সহ বাংলার ২টি হাসপাতালে শেষ হলো কর্মবিরতি, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত

আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার পর, সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিচারের দাবিতে চিকিৎসকরা টানা আন্দোলন করছেন। প্রথমে আরজি কর হাসপাতালে এবং পরে অন্যান্য হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে সামিল হন। এর ফলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পরিষেবা বড়ো মাত্রায় ব্যাহত হয়। চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকেই ফিরে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টও চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বানের পরেই কল্যাণী এইমস হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। পাশাপাশি, নদিয়ার আরেকটি বড়ো হাসপাতাল, জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন।
প্রায় ১১ দিন কর্মবিরতির পর, কল্যাণী এইমসের জুনিয়র ডাক্তাররা