🎬 সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন চমক: “Elementary My Dear Holmes”
বলতেই হয়, সিনেমার বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সবসময়ই অন্যদের থেকে আলাদা পথ বেছে নেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। এবার তিনি পা রাখছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তাঁর নতুন ছবি “Elementary My Dear Holmes” হতে চলেছে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল-এর জীবনী অবলম্বনে। ছবিটি হবে সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায়, এবং এতে দেখা যাবে শার্লক হোমসের স্রষ্টার জীবনের শেষ ৩০ বছর—যখন বাস্তব জীবনে তিনিও নিজের কল্পিত চরিত্রের মতোই রহস্যভেদে নামেন।
বাস্তবের গোয়েন্দা ডয়েল
১৯০৬ সালের এক বিখ্যাত ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৈরি হচ্ছে এই সিনেমা। স্যার আর্থার কোনান ডয়েল তখন দু’জন অভিযুক্তকে ভুলভাবে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচান—আর এই তদন্তের মূল হাতিয়ার ছিল তাঁরই বিখ্যাত চরিত্র শার্লক হোমসের মতো ‘ডিডাকশন লজিক’।
এই ঘটনার উপরই ভিত্তি করে সৃজিত গড়ে তুলছেন তাঁর নতুন ছবির কাহিনি। তিনি বলেন,
“আমার আগ্রহ অপরাধে নয়, বরং সেই মানুষটিকে ঘিরে, যিনি দেখছেন তাঁর কল্পনা বাস্তবের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।”
যৌথ প্রযোজনায় আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট
ছবিটি তৈরি হচ্ছে ব্রিটিশ ও ভারতীয় যৌথ প্রযোজনায়—Matchcut Productions ও Invisible Thread এর ব্যানারে। ছবির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে Sir Arthur Conan Doyle Estate-এর সহযোগিতাও। বর্তমানে সৃজিত রয়েছেন লন্ডনে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবির ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষণার পর একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়, যা কনান ডয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকেই সংগঠিত হয়।
সৃজিতের বক্তব্য
সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানান,
“এই ছবিটি শার্লক হোমস এবং তাঁর স্রষ্টা — দুজনের প্রতিই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য। এখানে ডয়েল নিজের তৈরি পৃথিবীতে পদার্পণ করছেন। বাস্তব আর কল্পনা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়াবে।”
ছবির মূল কাহিনি
চলচ্চিত্রটির সূচনা হবে মিসেস গিলক্রিস্ট হত্যাকাণ্ড এবং অস্কার স্লেটারের ভুল গ্রেপ্তার-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এখান থেকেই শুরু হবে ডয়েলের এক বাস্তব তদন্তের কাহিনি, যা ধীরে ধীরে তাঁকে নিয়ে যাবে নিজের কল্পিত চরিত্রের জগতে।
এক নতুন দৃষ্টিকোণ
“Elementary My Dear Holmes” শুধুমাত্র একটি বায়োপিক নয়, এটি এক মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান — যেখানে একজন লেখক, তাঁর সৃষ্ট চরিত্র, এবং বাস্তবতার সীমারেখা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।